আয় কমে ব্যয় বাড়ছে, ধুকছে মাধবপুরে ৫ চা বাগান
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৫ PM

আয় কমে ব্যয় বাড়ছে, ধুকছে মাধবপুরে ৫ চা বাগান

মাধবপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪/০৯/২০২৩ ০৪:৪৯:৪০ AM

আয় কমে ব্যয় বাড়ছে, ধুকছে মাধবপুরে ৫ চা বাগান

ফাইল ছবি


চার বছর ধরে লোকসান গুণছে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ৫টি চা বাগান। এতে বাগানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে ব্যবস্থাপানা কর্তৃপক্ষ।

বাগানসংশ্লিস্টরা জানান, ৪ বছর শ্রমিকের মজুরি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, আবাসন খরচ ও ওষুধসহ উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বড়ছে। সেই অনুযায়ী চায়ের উৎপাদন ও বাজার দর বৃদ্ধি পায়নি। এ অবস্থায় ৫টি চা বাগানের ব্যাংক দেনার পরিমান বড় হচ্ছে । ব্যাংক কতৃপক্ষ এখন ঋনের পরিমান কমিয়ে দিয়েছে। 

এ অবস্থা চলতে থাকলে মাধবপুর উপজেলার ৫ টি চা বাগান যে কোন সময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন সংশ্লিস্টরা। 

মাধবপুর উপজেলার ৫টি চা বাগানের মধ্যে ৫১ শতাংশ মালিকানা নিয়ে তেলিয়াপাড়া ও জগদীশপুর পরিচালনা করছে  ন্যাশনাল টি কোম্পানি। সুরমা, নোয়াপাড়া ও বৈকন্ঠপুর চা বাগান ব্যাক্তি মালিকানাধীন ।  

নোয়াপাড়া চা বাগান সূত্র জানা গেছে, ব্রিটিশ ফিনলে কোম্পানি থেকে সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী মুর্শেদ খান বাগানটি ক্রয় করেন। নতুন ব্যবস্থাপনায় কারখানা বর্ধিতকরণসহ নতুন বাগান সৃজন করে চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে প্রাকৃতিক দূর্যোগ বিশেষ করে খরার কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় তাদের লোকসান গুণতে হচ্ছে। করোনা মহামারির পর থেকে নোয়াপাড়া চা-বাগানে উৎপাদিত চায়ের ভালো বাজার না পাওয়ায় লোকসান দিতে হচ্ছে।

২০২২ সালে চা-শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে টানা ১৮দিন বাগান বন্ধের কারণে ওই অর্থ বছর লোকসানের পরিমান আরোও বেড়েছে। তাদের মতে, ভারত থেকে চোরাই পথে নিম্মানের চা পাতা দেশে প্রবেশের কারণে দেশের বাজার চায়ের বাজার দর দিন দিন কমেছে। 

বৈকন্ঠপুর চাবাগানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, বৈকন্ঠপুর চা বাগানটি একটি ছোট বাগান। এর শ্রমিক সংখ্যা ৪শয়ের মত। আমানত শাহ গ্রুপ ৫/৬ বছর আগে বাগানটির মালিকানা ক্রয় করে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই বাগান লাভের মুখ দেখেনি। বছর বছর লোকসানের বোঝা টানার কারণে এক সময় বাগানটি বন্ধ হওয়ার আশংকা করছেন সংশ্লিস্টরা। 

ন্যাশনাল টি কোম্পানির মালিকানাধীন জগদীশপুর চা-বাগানের অবস্থাো  তেমন ভালো নয়। চা বাগানের ভেতর কয়েক বছর ধরে চায়ের গাছ মরে যাওয়ায় চায়ের উৎপাদন অনেক কমে গেছে। চায়ের গুনগত মানও তেমন ভালো নয়। নতুন করে পতিত জায়গায় ছোট চা গাছ লাগানোর পর পরিচর্যার অভাবে সৃজিত নতুন বাগান সুফল হয়নি। শ্রমিকের মজুরি ১৫০ টাকা থেকে বড় ১৭০ টাকা হওয়ায় বাগান কর্তৃপক্ষকে এখন অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে। এদিকে বাড়ছে উৎপাদন খরচ। কমছে চায়ের উৎপাদন ও বাজার দর। একারণে গত ৮/১০ বছর ধরে লাভের মুখ দেখতে পারছে না বাগান কর্তৃপক্ষ। 

এশিয়ার অন্যতম বড় চা বাগান সুরমা। শ্রমিক সংখ্যা ২২শ। ৪ হাজার হেক্টর জমিতে চায়ের চাষাবাদ হচ্ছে। ২০/২৫ বছর আগে বাগানটি অবস্থা তেমন ভাল ছিলো না। কিন্তু গত ১৭ বছর ধরে সুরমা চা বাগানের বিশাল এলাকা জুড়ে উচু নিচু ভূমিতে নতুন চা গাছ লাগানোর কারনে বাগানে চা পাতার উৎপাদন বেড়ে গেছে। এ কারনে সুরমা চাবাগান কারখানার পরিমান বৃদ্ধি হয়েছে। ভারত থেকে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এনে সংযোজন করেছে। বিশাল এই বাগান উৎপাদন খরচের পাশাপাশি চায়ের নিলাম বাজার ভাল দর না পাওয়ায় লোকসানের পরিমান বেড়ে চলছে । করোনাকালিন সময় সারাদেশে লকডাউন থাকার কারন দেশের অবস্থা ভোক্তা পর্যায়ে চায়ের চাহিদা কম যাওয়ায় নিলাম বাজারে চায়ের দাম ছিল খুবই কম। একারন লোকসানের পরিমান আরোও বাড়ছে। তেলিয়াপাড়া চাবাগানে চায়ের উৎপাদন বাড়লেও বাজার দর ভাল না থাকায় লোকসানের মুখ পড়ছে চাবাগানটি। 

বৈকন্ঠপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক সামসুল ইসলাম বলেন, লোকসান কাটিয়ে উঠতে সরকারি ভাবে চাবাগান সল্প সুদে ঋণ ও প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে চা বাগান ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। এছাড়া অবৈধ পথে ভারত থেকে চোরাই চা পাতা বন্ধ সহ সরকারি ভাবে চায়ের বাজার দর নির্ধারণ করে দিলে দেশের অন্যতম চা শিল্প প্রাণ ফিরে পাবে। অন্যথায় সবুজ চা গাছ ও চা শিল্প কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে। 

ডি ডি