জৈন্তাবার্তায় সংবাদ প্রকাশের পর, বাহুবলে মহিলা কর্নারের ৩টি দোকান বন্ধ
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন

জৈন্তাবার্তায় সংবাদ প্রকাশের পর, বাহুবলে মহিলা কর্নারের ৩টি দোকান বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩/১২/২০২৪ ০৭:০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন

জৈন্তাবার্তায় সংবাদ প্রকাশের পর, বাহুবলে মহিলা কর্নারের ৩টি দোকান বন্ধ

ছবি: নিজস্ব


হবিগঞ্জের বাহুবল বাজারের মহিলা কর্নার নামে মহিলাদের পরিচালিত দোকানগুলো দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পুরুষ দ্বারা পরিচালনা করছিল স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। এ নিয়ে দৈনিক জৈন্তাবার্তা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

এরই প্রেক্ষিতে গত ৬ নভেম্বর বাহুবল উপজেলা প্রকৌশলী রাকিব হাসান স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে বাহুবল বাজারের মহিলা কর্নারের দোকানগুলোর চুক্তি বাতিল করা হয়। এরপরেও প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে জোরপূর্বক দোকান ঘরগুলো দখল করে ব্যবসা পরিচালনা  করে আসছিল। 

সোমবার (২ ডিসেম্বর) উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে দোকান ঘরগুলো খালি করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুর আহসান বলেন, মহিলা কর্নারের দোকানগুলো খালি করেছি। পরবর্তীতে বিধি মোতাবেক দোকানগুলো আবারো বরাদ্দ দেওয়া হবে।

জানা যায়, বাহুবল বাজারের মহিলা কর্নারের ৩টি দোকান অনিয়ম প্রান্তিকভাবে ভাড়াটিয়া ছিলেন ৪নং বাহুবল সদর ইউপি চেয়ারম্যান আজমল হোসেন চৌধুরীর আপন বোন ও বাহুবল উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলমের স্ত্রী জেসমিন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহবায়ক ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা শামীম মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার ও যুবলীগ নেতা মজনু মিয়ার স্ত্রী লিজা আক্তার। তারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাগজে পত্রে ভাড়াটিয়া হলেও অবৈধভাবে মোটা অংকের টাকা নিয়ে সাব ভাড়া দিয়ে পুরুষ দ্বারা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।

এ বিষয়ে দৈনিক জৈন্তাবার্তা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি বাহুবল বাজারে তোলপাড় শুরু হয় এবং অন্যান্য মহিলা আবেদনকারীদের মাঝে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তাদের প্রতি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। চাপের মুখে উপজেলা প্রকৌশলী ওই তিন মহিলাকে শোকজ করেন। শোকজের জবাবেও পুরুষ নিয়োগের কথা স্বীকার করেন। এরপর ২ মাস পেরিয়ে যাওয়া পর গত ৬ নভেম্বর চিঠির মাধ্যমে চুক্তি বাতিল করা হয়। কিন্তু প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে জবরদখল করে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। অবশেষে ২ ডিসেম্বর প্রশাসন দোকান গুলো খালি করে অবৈধ দখলকারীদের উচ্ছেদ করেন। এতে করে বাজারের ব্যবসায়ী মহলে আনন্দ উল্লাস বয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি আগামীতে যেন সঠিক মহিলা ব্যবসায়ীরা দোকানগুলো বরাদ্দ পান।

বাহুবল বাজার কমিটির সভাপতি এমএ জলিল তালুকদার বলেন, প্রশাসনের মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে যেন প্রকৃত মহিলা ব্যবসায়ীদের দোকান কোঠা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার



শীর্ষ সংবাদ: