ছবি : সংগৃহীত
গৃহকর্মী ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন হবিগঞ্জের মাধবপুরের গৃহবধূ রেহেনা খাতুন। সেখানে যাওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি একটি ভিডিওবার্তা পাঠিয়ে তাকে উদ্ধারের আবেদন জানিয়েছিলেন। ওই ভিডিওবার্তার সূত্রে বাংলাদেশের অনেকগুলো গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর রেহেনাকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
জানা গেছে, রেনাহে এখন বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে আছেন এবং বৃহস্পতিবারে মধ্যে তাকে দেশে ফেরানো হবে।
রেহেনা মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের কোনাবাড়ী মহল্লার বাসিন্দা। প্রায় দুই মাস আগে গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদি আরবের জেদ্দায় যান তিনি। সেখানে কাজ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে দেশে ফেরার জন্য সরকারের সহযোগিতা চান।
জানা যায়, গত সোমবার (৫ অক্টোবর) রেহেনাকে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ শাখার উপপরিচালক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া। বর্তমানে দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে থাকা রেহেনাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত রোববার (৪ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ শাখার পরিচালক লোকমান হোসেন সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে চিঠি দেন। চিঠিতে রেহেনাকে দ্রুত দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
ঢাকার ফকিরাপুলের রিক্রুটিং এজেন্সি জেনিয়া ওভারসিসের কর্মকর্তা হাসান মিয়া জানান, বৃহস্পতিবারের মধ্যেই রেহেনাকে দেশে ফেরানো হবে। তার বিমানের টিকিটও কেনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে রয়েছেন।
এর আগে রেহেনা এক ভিডিওবার্তায় অভিযোগ করেছিলেন, সৌদি আরবে তাকে অতিরিক্ত কাজ করানো হচ্ছে, সময়মতো খাবার দেওয়া হচ্ছে না এবং বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছে না।
পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না করার জন্য তাকে ইন্টারনেট সংযোগও দেওয়া হয়নি জানান বলে তার বোন হেনা বেগম। হেনা বেগমও বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
ভিডিওবার্তায় রেহেনা অভিযোগ করেন, সৌদি আরবে একটি এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করলে দেশে ফিরিয়ে নিতে তার কাছে সাড়ে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়। এ সময় এজেন্সির পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়েছে, ‘আমি তোমাকে বিক্রি করে দিয়েছি। এরপর আর আমি তোমাকে নিতে পারব না।’ পরে তিনি নিজেকে জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে রয়েছেন দাবি করে সরকারকে তাকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানান।
রেহেনার স্বামী আলী আহমদ জানান, স্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ায় তারা খুশি। তবে রেহেনার পাওনা বেতন-ভাতা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। তিনি সরকারের কাছে পাওনা টাকা আদায়েও সহযোগিতা কামনা করেন।
জৈন্তাবার্তা/আরআর




