মঙ্গলবার থেকে খুলছে এনটিসির ১৯টি চা বাগান
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ন

মঙ্গলবার থেকে খুলছে এনটিসির ১৯টি চা বাগান

নুরুল ইসলাম শেফুল, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০/১২/২০২৪ ১১:৪৪:৩৪ পূর্বাহ্ন

মঙ্গলবার থেকে খুলছে এনটিসির ১৯টি চা বাগান

ছবি: নিজস্ব


অবশেষে সোমবার বিকালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাসহ ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি) এর চা বাগানের সকল চা শ্রমিকদের বকেয়া ছয় সপ্তাহের মধ্যে দু’সপ্তাহের তলব (মজুরি) প্রায় তিন কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (৯ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার মাধবপুর চা বাগানের ১হাজার ১শত ৫০ জন শ্রমিককে দু’ সপ্তাহের তলব (মজুরি) ২৩৮০ টাকা করে প্রদান করা হয়।

বকেয়া মজুরির দাবীতে গত তিন মাস যাবৎ চা শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে আন্দোলন করে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বকেয়া মজুরি পাওয়ার পর শুক্রবার থেকে কাজে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি পত্র না পাওয়ায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া যায়নি। ফলে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি প্রদান সম্ভব হয়নি। এতে ন্যাশনাল টি কোম্পানী লিমিটেড এর ফাঁড়িসহ ১৯টি চা বাগানের চা শ্রমিকরা কাজে যোগদান করেননি।

উল্লেখ্য,গত ১ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শ্রম অধিদফতর কার্যালয়ে চা শ্রমিকদের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও ন্যাশনাল টি কোম্পানির কর্তৃপক্ষের যৌথ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল টি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহমুদ হাসান, এনটিসির মহাব্যবস্থাপক এমদাদুল হক, ডিডিএল নাহিদুল ইসলাম এবং চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরিসহ অনেকে।

এ বৈঠকে ৫ ডিসেম্বর কাজে যোগ দেওয়ার প্রথম দিন শ্রমিকদের ২ সপ্তাহের বকেয়া মজুরি দেওয়া, মাসিক বেতনধারী শ্রমিকদের ১ মাসের বেতন দেওয়া, শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন নিয়মিত পরিশোধ, বাগানের কর্মচারীদের ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে ১ মাসের বেতন দেয়া, বাগান বন্ধের দিনগুলোতে চা শ্রমিকদের রেশন কর্তন না করা, বোনাস ও বার্ষিক ছুটির দিন গণনার ক্ষেত্রে বাগান বন্ধের দিনগুলো অনুপস্থিত না দেখানোর সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছিল।এছাড়া অবশিষ্ট বকেয়া মজুরি আগামী ২০২৫ সালের মার্চ এর মধ্যে পরিশোধ করা হবে।

একইসঙ্গে ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিলের মধ্যে প্রভিডেন্ট ফান্ডের বকেয়া চাঁদা পরিশোধ করা হবে। এসব সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাশনাল টি বাগানের শ্রমিকরা ৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার কাজে যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।প্রসঙ্গত, চা শ্রমিকরা মজুরি না পেয়ে টানা ১২ সপ্তাহ ধরে ন্যাশনাল টি কোম্পানির ১৯টি বাগানে সব ধরনের কাজ বন্ধ করে দেয়। এতে সরকার নিয়ন্ত্রিত এ বাগানগুলো অচল হয়ে পড়ে।

ন্যাশনাল টি কোম্পানী লিমিটেড এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শফিকুর রহমান মুন্না বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র না পাওয়ায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া যায়নি। ফলে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি প্রদান সম্ভব হয়নি। সোমবার বিকেলে চা শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি প্রদান শুরু করা হয়েছে, মঙ্গলবার থেকে চা শ্রমিকরা কাজে যোগদান করবে।’

তিনি আরও বলেন, ভরা মৌসুমে এসে চা শ্রমিকরা চা পাতা চয়ন না করায় চা উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে করে ন্যাশনাল টি কোম্পানির ফাঁড়িসহ দেশের ১৯টি চা বাগান মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ভরা মৌসুমে চা বাগান গুলি বন্ধের কারণে কোটি কোটি টাকা লোকসান মুখে পড়ছে ন্যশনাল টি কোম্পানি। এটা এখন কোম্পানির জন্য মরার উপর খরার ঘাঁ এর মত হয়ে দাড়িয়েছে।

জৈন্তাবার্তা / সুলতানা



শীর্ষ সংবাদ:

১৪ দল নিয়ে নভেম্বরে সিলেটে ‘মাহবুব আলী খান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’
এবার রাধারমণের সমাধিস্থলে গান-বাজনা বন্ধের আবেদন
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে অনন্য উদ্যোগ: সিসিক প্রশাসক
‘আকবরের ফাঁ/সি কার্যকর হলে রায়হানের আত্মাও শান্তি পাবে’- সালমা বেগম
রায়হান হ/ত্যা মামলায় এসআই আকবরের মৃ/ত্যুদ/ণ্ড
শ্রীমঙ্গলে শাবানা বেগম হ/ত্যা মা/মলায় ৪ জনের মৃ/ত্যুদ/ণ্ড
সিলেটে প্রায় ১৪ লাখ টাকার অ/বৈধ মালামাল জ/ব্দ
সিলেটে দুই সাংবাদিকের র/ক্ত ঝরিয়ে কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
সিলেট সীমান্তে ১০ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জ*ব্দ করল ৪৮ বি জি বি
গোয়াইনঘাটে কার্তিকের বৃষ্টির জন্য হাহাকার, ৫১ ধান নিয়ে শ/ঙ্কায় কৃষক