‘দুই টাকার শিক্ষক’ ফজলু এখন ফেরিওয়ালা
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০১:১৭ PM

‘দুই টাকার শিক্ষক’ ফজলু এখন ফেরিওয়ালা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৬/১০/২০২৩ ০৫:৩৪:১৩ AM

‘দুই টাকার শিক্ষক’ ফজলু এখন ফেরিওয়ালা

ফজলু মিয়া


বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের একত্রিত করে পড়াতেন। তিনি কোন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক না হলেও সমাজের ঝড়ে পড়া প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পড়ানো তার নেশা ছিল। টাকার দিকে প্রাধান্য না দিয়ে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্টির সন্তানদের পড়াতেন ফজলু মিয়া। 

বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতিদিন ২ টাকা করে নিতেন। আবার কেউ টাকা দিতে না পারলেও চাপ প্রয়োগ করতেন না। যার ফলে এলাকায় তার নাম পড়ে দুই টাকার শিক্ষক। এলাকার সবার কাছে তিনি দুই টাকার শিক্ষক হিসাবে পরিচিত পান।

বর্তমানে বয়েসেরভারে শিক্ষার্থীদের পড়াতে পারছেন না। অভাবের সংসারে পড়ছে টানাপোড়ন। জীবিকার তাগিতে বাধ্য হয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের শিক্ষা সামগ্রী বিক্রি করছেন। শিক্ষার প্রতি তার দরদ রয়েছে।

জানা যায়, ফজলু মিয়া মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার সারমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৫ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। কিন্তু জটিল রোগের কারণে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। এরপর থেকেই তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ানো শুরু করেন। ফজলু মিয়ার ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন। মারা গেছেন স্ত্রীও। নিজে রান্না করে খান।  

 স্থানীয় ইউপি সদস্য জুনেদ মিয়া বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি ফজলু মিয়া বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াতেন। তার এই উদ্যোগে উপকৃত হয়েছেন সমাজের পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে কিছুটা ফজলু মিয়া মানবতের জীবনযাপন করছেন।’

ফজলু মিয়ার ছাত্র ও পাঁচগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মনসুর আলী বলেন, ‘আমরা যখন পড়েছি তখন কে টাকা দিল আর কে দিলও না সেটা তিনি দেখতেন না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সবাইকে একত্রিত করে পড়াতেন। স্যারের কল্যাণে আমরা অনেকে পড়ালেখা করতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে বয়েসের ভারে স্যার পড়াতে পারেন না। লেখাপড়ার প্রতি দরদ থাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের শিক্ষা সামগ্রী বিক্রি করে কোনো রকম চলেন। তিনি সৎ ও ন্যায়পরায়ন শিক্ষক।’

জাকারিয়া নামের অপর শিক্ষার্থী বলেন, স্যারের কাছে আমরা যখন পড়তাম তখন অন্যান্য শিক্ষকরা মাসিক ৪শত থেকে ৫শত টাকা নিতেন। কিন্তু ফজলু স্যার নিতেন মাসে ৬০ টাকা। আবার কেউ কেউ টাকা না দিতে পারলেও পড়ানো বাদ দিতেন না। বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজি তিনি খুব ভালো করে পড়াতে পারতেন।


ডিডি