ছবি: জৈন্তা বার্তা
দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বেহাল হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং শরিফ উদ্দিন সড়ক। সড়কটি বেহাল থাকায় স্থানীয় লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তবে সম্প্রতি সড়কটি সংস্কারের জন্য সরকারি লোকজন এসে মাপজোখ কারায় স্থানীয়দের মনে আশা জেগেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই সড়ক নিয়ে আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা। সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই সড়কের সংস্কারকাজের দায়িত্ব একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে এবং কাজটি শিগগির শুরু হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখে ওন স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শরিফ উদ্দিন সড়ক তাদের কাছে একটি দীর্ঘশ্বাসের নাম। ২০১৭ সালে ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের নির্মাণকাজ শেষ করে সওজ। এরপর সড়কটির কোনো সংস্কার না হওয়ায় এটি রূপ নিয়েছে দুর্ঘটনার উৎসে। একসময় এই সড়কটিই ছিল এলাকাবাসীর যোগাযোগের মূল মাধ্যম। অথচ আজ সেখানে শুধু খানাখন্দ আর বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা। সড়কের কোথাও উঠে গেছে পিচ, বেরিয়ে এসেছে নিচের মাটি। আবার কোথাও পানি ও কাদা মিশে একাকার ছোটখাটো পুকুর। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন হাজারও শিক্ষার্থী, কৃষিপণ্যবাহী যানবাহনের চালক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। তবে বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও কোনো টেকসই সংস্কার বা নজরদারির উদ্যোগ ছিল না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এখানে প্রায় প্রতিদিনই ঘটে চলেছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। কেউ হাত ভাঙছে, কেউ পা মচকাচ্ছে, কারো জীবন থেমে যাচ্ছে চিরতরে।
সড়কটি বেহাল হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে আছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। কলা, ডিম, মাছ, সবজি ও অন্যান্য কাঁচামাল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উৎপাদকরা, অন্যদিকে ভোক্তাদের গুণতে হচ্ছে পণ্যের অতিরিক্ত মূল্য। ফলে গোটা অঞ্চলের অর্থনীতি ও জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা।
সড়কটি সংস্কারের বিষয়ে হবিগঞ্জ সওজ’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোন আলাপ করলে তিনি জানান, এই সড়ক সংস্কারের মেগা প্রকল্পটির কাজ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই সড়কে লোকজন গেছে। কাজটি শিগগির শুরু হবে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




