ছবি:সংগৃহীত
সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনার পর এবার আলোচনায় এসেছে জেলা প্রশাসনের স্থানীয় রাজস্ব (এলআর) ফান্ড। এ বিষয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বুধবার (২৪ জুন) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের এলআর ফান্ড দীর্ঘদিনের একটি প্রথা। বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। তবে এ বিষয়ে যা করার তা আলোচনার মাধ্যমে করতে হবে। কোনো পরিবর্তন আনতে হলে সময় দিতে হবে। হুট করে কিছু করা যাবে না।’
মন্ত্রী বলেন, এলআর ফান্ড মূলত স্থানীয় পর্যায়ে সংগৃহীত রাজস্বের একটি তহবিল। স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন চাঁদা, অনুদানসহ বিভিন্ন উৎসের অর্থ দিয়ে এ ফান্ড গঠিত হয়। সাধারণত জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এই তহবিল পরিচালনা করেন।
তবে দীর্ঘদিন ধরেই এই ফান্ডের স্বচ্ছতা, সঠিক ব্যবহার ও জবাবদিহিতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। অনেকের অভিযোগ, এলআর ফান্ড নিয়মিত অডিটের আওতায় না থাকায় এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দুর্নীতি দমন ও স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থাও অতীতে এ ফান্ডের হিসাব প্রকাশ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।
সম্প্রতি সিলেটের সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। তার উদ্যোগে মাজারে দানবাক্স স্থাপন, দানের টাকা প্রকাশ্যে গণনা এবং ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা আনার কার্যক্রম শুরু হয়।
এ সময় জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেছিলেন, ‘মাজারে দান করা টাকা জনগণের। এই টাকার হিসাব জানার অধিকার জনগণের রয়েছে।’ তার এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকে প্রশ্ন তোলেন, জনগণের দানের অর্থ হলে জেলা প্রশাসনের এলআর ফান্ডের হিসাবও জনগণের সামনে প্রকাশ করা উচিত।
এরপর বিভিন্ন মহল থেকে এলআর ফান্ডের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের দাবি ওঠে। তবে এ বিষয়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম কোনো মন্তব্য করেননি এবং হিসাব প্রকাশের কোনো উদ্যোগও নেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ১২ জুন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন করে আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেন। পরে ১৮ জুন মাজারের দানের তিনটি ডেগে সিলগালা করা হয়। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড় একটি প্রধান দানবাক্সসহ কয়েকটি ছোট দানবাক্স স্থাপন, নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্য নিয়োগ এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।
এসব উদ্যোগের পর সিলেটে মাজারের ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনের এলআর ফান্ড পর্যন্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




