ছবি:সংগৃহীত
তপশিল ঘোষণার আগেই সুনামগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। প্রচারণায় সরব প্রার্থীরা। উঠান বৈঠক, সমাবেশ ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন ৯ জন প্রার্থী।
জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপি, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জামায়াতে ইসলামী, জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম, এনসিপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ৯ জন মাঠে রয়েছেন। নির্বাচনী এলাকায় শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের বিলবোর্ড ও ফ্যাস্টুন। প্রর্থীরা ভোটারদের হাতে তুলে দিচ্ছেন লিফলেট। কর্মীরাও যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ। তবে কয়ছর মনোনয়ন পাওয়ায় বিদ্রোহ ষোষণা দিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ব্যারিষ্টার আনোয়ার হোসেন। তিনি নির্বাচনী এলঅকা চষে বেড়াচ্ছেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা জানিয়েছেন।
বিএনপির প্রার্থী কয়ছর এম আহমদ বলেন, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে মানুষ স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে আমাকে গ্রহণ করেছেন। আমি মানুষের কাছে যাচ্ছি। পতিত স্বৈরাচারী সরকার সাধারণ মানুষের কাছে যেতো না বলেই তারা জনগণকে মূল্যায়ণ করতো না। মানুষের সাথে আমাদের একটা কমিটমেন্ট আছে। মানুষের মন জয়ে কাজ করে যাচ্ছি। মানুষও সাড়া দিচ্ছেন। আমরা জয়ের ব্যপারে শতভাগ আশাবাদী।
জামায়েতে ইসলামির প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইয়াছিন খান বলেন, মানুষ বিগত দিনগুলোকে বিএনপি-আওয়ামী লীগকে দেখেছেন। এবার তারা পরিবর্তন চান। বিশেষ কোনো শ্রেণি নয়, সব শ্রেণির ভোটাররাই আমাকে ভোট দেবেন। নিয়মিত উঠান বৈঠকে অংশ নিচ্ছি। আমি আশাবাদী।
অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমার অনেক বিলবোর্ড অন্য প্রার্থীর লোকজন ছিঁড়ে ফেলছেন। শান্তিগঞ্জের পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের মনবেগ পয়েন্টে আমার বিলবোর্ড ছিঁড়ে অন্য প্রার্থীর লোকজন নিজের পছন্দের প্রার্থীর বিলবোর্ড টানিয়েছেন। জনগণ ভোটের মাধ্যমে এর জবাব দেবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রিয় নায়েবে আমির সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী বলেন, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আবদুস সামাদ আজাদের সাথে নির্বাচন করেছি। আরও ৪টি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আমার ঝুঁলিতে আছে। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে কাজ করছি। রিক্সা প্রতীকে সাধারণ মানুষ এই নির্বাচনে আমাকে আরেকবার সুযোগ দিবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। অন্যান্য নির্বাচনের চেয়ে এ নির্বাচন আমার কাছে বেশ প্রফুল্ল মনে হচ্ছে। আমার ব্যক্তি ইমেজ আছে। আমি আশাবাদী মানুষ আমাকেই বেছে নেবেন।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রচার সম্পাদক সৈয়দ তালহা আলম বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন তিনি। জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ইতোমধ্যে দু’বার অংশ নিয়ে বেশ সাড়া ফেলেছিলেন তিনি। উঠান বৈঠক ও গণসংযোগে মাঠে সক্রিয় ভ‚মিকায় আছেন তালহা।
এদিকে দল থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ব্যারিষ্টার আনোয়ার হোসেন। তিনিও গ্রামে গ্রামে গণসংযোগ করছেন। দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শোভা পাচ্ছে তাঁর নির্বাচনী বিলবোর্ড, ফ্যাস্টুন ও ব্যানার।
খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রাথী হাফিজ শেখ মুশতাক আহমদ বলেন, এ আসনে আট দলীয় সমঝোতার প্রার্থী হিসেবে তিনি এগিয়ে রয়েছেন। তিনি বলেন আট দলের প্রার্থী হলে সুনামগঞ্জ ৩ আসনে ভোট বিপ্লব ঘটবে।
খেলাফত মজলিসের নেতা হাফিজ শেখ মুশতাক আহমদও নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে এনসিপি থেকে মনোনয়ন চাচ্ছেন দুইজন। তারা হলেন মাসুদুর রহমান মাসুদ ও ইসহাক আমিনী।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




