মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনের ১০৩টি ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। সকাল থেকে উপজেলার ভোটকেন্দ্রগুলোতে নারী ভোটারদের দীর্ঘ সারিতে দাঁড়াতে দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি। পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি ছিল খুব কম।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের করের গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চৌধুরীবাজার জিএস কুতুবশাহ আলিম মাদ্রাসা, একিদত্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পৌরসভার নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, রাবেয়া আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল থেকেই নারী ভোটারদের ভিড় দেখা যায়। অনেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ধৈর্য সহকারে ভোট দেওয়ার অপেক্ষা করেন।
এদিকে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন মৌলভীবাজারের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. রুবেল আহমদ, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিনসহ সেনাবাহিনী, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তারা।
রাবেয়া আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. আবু মাসুদ বলেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৩৯৩ ভোটের মধ্যে ৫ শতাধিক ভোট কাস্টিং হয়েছে। কেন্দ্রে নারী ভোটার বেশি ছিল।
করের গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের নারী ভোটার পলি আক্তার, কুলছুমা আক্তার, সাবিনা আক্তার, তাইয়্যিবা বেগমসহ অনেকেই বলেন, সকালে ভোট দিলে অনেক স্বস্তিতে দেওয়া যায়। দেরিতে ভোট দিলে লাইনে দাঁড়াতে হয় এবং প্রচণ্ড রোদ থাকে। তখন আমাদের অনেক কষ্ট হয়ে যায়। তাই আমাদের পরিবারের সবাইকে নিয়ে সকালেই চলে এসেছি ভোট দিতে।
নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার প্রীতম শিকদার জয় বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। সকাল ১০টা পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৮৮৭ ভোটের মধ্যে প্রায় ৬শ ভোট কাস্টিং হয়েছে। নারী ভোটারের উপস্থিতি অনেক বেশি।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, উপজেলার সবক'টি কেন্দ্রে সকাল থেকে সুষ্ঠু, সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে কাজ করছে সেনাবাহিনীর ৩ প্লাটুন, বিজিবির ৪ প্লাটুন, পুলিশের ১৪ টি মোবাইল টিম, পুলিশের স্ট্রাইকিং ফোর্স ২টি, র্যাবের ১টি টিম, আনসার ব্যাটেলিয়ানের ২টি টিম। পাশাপাশি ৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেখ্য, এই আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকু (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. সায়েদ আলী (দাঁড়িপাল্লা), স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাছ খান (ফুটবল), স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল হক খান সাহেদ (কাপ-পিরিচ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত আব্দুল কুদ্দুস (হাতপাখা), জাতীয় পার্টি মনোনীত মো. আব্দুল মালিক (লাঙ্গল), বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী (কাঁচি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এম. জিমিউর রহমান চৌধুরী (ঘোড়া) প্রতীক।
এই আসনে ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩ হাজার ২০। তাঁদের মধ্যে ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯২ জন নারী ও ১ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৪০ জন পুরুষ ভোটার। দেশে ও বিদেশে মোট ৫ হাজার ৫৮৮ জন পোস্টাল ভোটার রয়েছেন। মোট ভোটকেন্দ্র ১০৩টি।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




