ঈদে পর্যটকদের ঢল, কমেনি মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত-এর আকর্ষণ
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৩:৪৪ AM

ঈদে পর্যটকদের ঢল, কমেনি মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত-এর আকর্ষণ

মোহাম্মদ মোস্তফা উদ্দিন, বড়লেখা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩/০৩/২০২৬ ০৬:৪৯:০৩ PM

ঈদে পর্যটকদের ঢল, কমেনি মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত-এর আকর্ষণ

ছবি:সংগৃহীত


দেশে নতুন নতুন ঝর্ণা আবিষ্কৃত হলেও মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অবস্থিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত-এর আকর্ষণ এতটুকুও কমেনি। বরং পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে এখানে নেমেছে পর্যটকদের ঢল।

জলপ্রপাতপ্রেমীদের অন্যতম গন্তব্য মাধবকুণ্ডে প্রতিদিনই ভিড় থাকলেও ঈদের সময় তা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এবারের ছুটিতেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ছুটে এসেছেন হাজারো মানুষ। এতে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে পুরো পর্যটন এলাকা, আর মুখে হাসি ফুটেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কের কাঁঠালতলি বাজার থেকে জলপ্রপাতের প্রবেশপথ পর্যন্ত সড়কে ছিল যানবাহনের চাপ। ছোট-বড় গাড়িতে করে পর্যটকরা ছুটে আসছেন। প্রবেশ ফটকের টিকিট কাউন্টারে লম্বা লাইন, আশপাশের দোকানপাট ও হোটেলগুলোতেও উপচে পড়া ভিড়।

ঝর্ণার পথে হাঁটতেই চোখে পড়ে পর্যটকদের উচ্ছ্বাস। কেউ ঝর্ণার পানিতে গোসল করছেন, কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তুলছেন, আবার কেউ সেলফিতে বন্দি করছেন মুহূর্তগুলো। স্থানীয় আলোকচিত্রীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বর্ষার শুরুতেই ঈদের ছুটি পড়ায় প্রকৃতির রূপ যেন আরও মোহনীয় হয়ে উঠেছে। পানিতে টইটম্বুর ঝর্ণা, পাহাড়ি নির্মল বাতাস, সবুজে ঘেরা পরিবেশ আর গর্জনধ্বনিতে ভরপুর জলধারা মিলিয়ে সৃষ্টি হয়েছে এক অপূর্ব আবহ।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমবার এখানে এসে মুগ্ধ হয়েছি। পাহাড় বেয়ে নামা ঝর্ণাধারা সত্যিই অসাধারণ। মৌলভীবাজারে অনেক সুন্দর পর্যটন স্পট রয়েছে, যা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে।’

পরিবার নিয়ে প্রথমবার ঘুরতে আসা ব্যবসায়ী অমল বসু বলেন, ‘প্রকৃতির এত সুন্দর পরিবেশে সময় কাটাতে পেরে ভালো লাগছে। ঈদের আনন্দ এখানে এসে যেন আরও বেড়ে গেছে।’

বরিশাল থেকে দ্বিতীয়বার আসা আব্দুল হাকিম জানান, “আগের তুলনায় কিছু উন্নয়ন হয়েছে। বসার জায়গা, শেড, ওয়াশরুম-সবকিছুই এখন বেশ গুছানো। তবে পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে আরও সচেতনতা প্রয়োজন।’

পর্যটন এলাকাজুড়ে কিছু জায়গায় প্লাস্টিকের বোতল ও খাবারের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে বেমানান। এ বিষয়ে পর্যটকরা সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

স্থানীয়দের মতে, ঈদের দিন থেকে সোমবার পর্যন্ত প্রায় ১০-১২ হাজার পর্যটক মাধবকুণ্ডে ভিড় করেছেন। সামনে আরও ছুটি থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

প্রবেশ ফটকে দায়িত্বে থাকা রাজু আহমদ জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে টুরিস্ট পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

দিন শেষে সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়লেও কমেনি ভিড়। ক্লান্ত শরীর, তৃপ্ত মন আর স্মৃতিভরা মুহূর্ত নিয়ে ফিরছেন দর্শনার্থীরা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই অপার লীলাভূমি শুধু একটি জলপ্রপাত নয়-এটি যেন মানুষের ক্লান্তি দূর করার এক প্রশান্তির ঠিকানা। তবে এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে প্রয়োজন সবার সচেতনতা, যত্ন ও ভালোবাসা।


জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ