সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের ক্যাম্পাস, পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা, শিক্ষাদান, কারিগরি কেন্দ্র, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি সহপাঠ্য কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, লাইব্রেরি, কম্পিউটার, বিশ্রামাগার, নামাজ কক্ষ সবই যেন শিল্পীর আঁকা ছবির মতো।
অতি অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি সকলের নজর কেড়েছে। স্থানীয়রাসহ অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকগণ, বিভিন্ন পেশাজীবী আসছেন প্রতিষ্ঠানটি দেখতে, পরিদর্শন শেষে করছেন প্রশংসা।
প্রতিষ্ঠানটি হচ্ছে বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুড় ইউনিয়নের নুরপুর এলাকায় অবস্থিত মাদিনাতুয যাহরা আল ইসলামিয়া মাধ্যমিক বালিকা মাদ্রাসা অ্যান্ড স্কুল। যুক্তরাজ্য প্রবাসী খতিব তাজুল ইসলাম অন্যান্য প্রবাসী, দাতা ও স্থানীয়দের সার্বিক সহযোগিতায় এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে ২০০৩ সালে জামেয়া নুরানিয়ার প্রাথমিক শাখা এবং ২০২০ সালে মাধ্যমিক শাখা চালু হয়। নুরানিয়া শাখায় ১ম-৫ম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ১৫৪ জন। শিক্ষক-শিক্ষিকা ও স্টাফ ১০ জন। অন্যদিকে মাধ্যমিক শাখায় ৬ষ্ঠ-৯ম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ৪৬ জন। শিক্ষক-শিক্ষিকা ও স্টাফ ৭ জন।
সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা এ এস এম আনোয়ারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানের সুন্দর পরিবেশ, শৃঙ্খলা এবং ব্যতিক্রমধর্মী ব্যবস্থাপনা দেখে ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, আমি বারবার আসব এই প্রতিষ্ঠানে, ইনশাআল্লাহ। এত সুন্দর প্রতিষ্ঠান বালাগঞ্জে আছে আমি জানতাম না।
বোয়ালজুড় বাজার উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মনির হোসেন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, এই প্রতিষ্ঠান, এই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দেখে আমার শিক্ষকতার জীবন আজ পূর্ণতা পেয়েছে। আমার অনেক শিক্ষার্থী আজ এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত। এর চেয়ে বড় পাওয়া আমার আর কী হতে পারে।
দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক) বালাগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শাহাব উদ্দীন শাহীন বলেন, আমি বালাগঞ্জের এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে যাইনি। কিন্তু এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো এত পরিপাটি পরিবেশ খুব কমই দেখেছি। শুধু তাই নয়, শিক্ষার গুণগত মান অত্যন্ত ভালো ও প্রশংসনীয়। আমি এখন থেকে যত প্রতিষ্ঠানে যাবো, সবাইকে বলবো তারা যেন একবার হলেও এই প্রতিষ্ঠান দেখে যান।
মাদিনাতুয যাহরা আল ইসলামিয়া মাধ্যমিক বালিকা মাদ্রাসা অ্যান্ড স্কুলের প্রধান শিক্ষক সায়্যিদুল ইসলাম বলেন, মাধ্যমিক শাখায় বর্তমানে ৪৬ জন বালিকা অধ্যায়নরত। আগামী বছর ১ম ব্যাচ হিসেবে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে ১০ জন।
তিনি আরো বলেন, আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি ক্যাম্পাসকে সুন্দর রাখতে এবং শিক্ষার্থীদেরও সেই শিক্ষা দিচ্ছি। পাঠদানের পাশাপাশি সেলাই ও কম্পিউটার বিষয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে বাধ্যতামূলক। জীবন দক্ষতা বিষয়ে পাক্ষিকভাবে আলোচনা করা হয়।
জামেয়া নুরানিয়া ও মাদিনাতুয যাহরার শিক্ষকবৃন্দ হলেন- পরিচালক মাওলানা লুৎফুর রহমান, প্রধান শিক্ষক মাওলানা আরিফ বিল্লাহ, সহকারী প্রধান শিক্ষক মাওলানা ইকরামুল হক জুনাইদসহ সব মিলিয়ে মোট ১০ জন। অন্যদিকে, মাদিনাতুয যাহরা আল ইসলামিয়া শাখার শিক্ষকবৃন্দ হলেন- প্রধান শিক্ষক সায়্যিদুল ইসলাম, সহকারী প্রধান শিক্ষিকা ফাতেমা রহমান সামী, ফুয়াদ হাসান, লিমা বেগম, ডলি বেগম, আমিনা বেগম ও শেপী বেগম। এছাড়া অতিথি শিক্ষক হিসেবে আছেন মাওলানা আরিফ বিল্লাহ ও হাফিজ মাওলানা ইকরামুল হক।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




