সড়ক পরিবহন সেক্টর সংস্কার জরুরি
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৫:১৫ PM

এপ্রিলে ৫২৭ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫১০, আহত ১২৬৮ : যাত্রী কল্যাণ সমিতি

সড়ক পরিবহন সেক্টর সংস্কার জরুরি

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩/০৫/২০২৬ ০৩:৪৫:৫২ PM

সড়ক পরিবহন সেক্টর সংস্কার জরুরি

ছবি:সংগৃহীত


দেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির তথ্যমতে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশে ৫২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১০ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৬৮ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৫৪টি দুর্ঘটনায় ৪৯ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া নৌপথে ৫টি দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৫৮৬টি দুর্ঘটনায় ৫৬৩ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৭৯ জন আহত হয়েছেন।

সংগঠনটির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের পরিবহন খাত পরিচালনার বিদ্যমান পদ্ধতিতে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তে দেশি-বিদেশি পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে খাতটি পরিচালিত হলে পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, মানুষের দুর্ভোগ কমানো এবং প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিল মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ছিল সবচেয়ে উদ্বেগজনক। এ সময় ১৩৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৪২ জন নিহত এবং ১২৪ জন আহত হয়েছেন। যা মোট দুর্ঘটনার ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে ১৩৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত ও ২৬৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। সেখানে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ৬৪ জন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, চালক, পথচারী, পরিবহন শ্রমিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। নিহতদের মধ্যে ৯৯ জন চালক, ৮২ জন পথচারী, ৫৬ জন শিক্ষার্থী, ৫২ জন নারী এবং ৪৭ জন শিশু রয়েছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেল, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান, বাস, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা বেশি। অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মুখোমুখি সংঘর্ষ, গাড়িচাপা ও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার কারণে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩১ দশমিক ৪৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২২ দশমিক ৯৬ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি দুর্ঘটনার জন্য কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে-মহাসড়কে অবাধে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত যান চলাচল, রোড সাইন ও রোড মার্কিংয়ের অভাব, সড়কের নির্মাণ ত্রুটি, উল্টোপথে যান চলাচল, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং চালকদের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা।

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংগঠনটি বেশ কিছু সুপারিশও তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে-সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ, ডিজিটাল পদ্ধতিতে যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, মহাসড়কে আলোকসজ্জা স্থাপন, চাঁদাবাজি বন্ধ, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, উন্নত বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে দুর্ঘটনা গবেষণা ইউনিট চালু করা।

সংগঠনটি বলেছে, প্রতিবছর সড়কে প্রাণহানির মিছিল থামাতে পরিবহন খাতের ‘আপদমস্তক সংস্কার’এখন সময়ের দাবি।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ