বিএনপির কার্যালয়ের সামনে কাঁটাতারের ব্যারিকেড
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে পুলিশের কড়াকড়ি আরও বেড়েছে। দলটির ডাকা দ্বিতীয় দফার অবরোধের প্রথম দিনেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। ২৮ অক্টোবরের সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষের পর থেকে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যে তালা ঝুলছে, নয় দিন পরও সেটি খোলেনি। নেতাকর্মিদের কেউ ওই এলাকায় ভিড় করেননি।
ওই ঘটনার পর থেকেই বিএনপি কার্যালয়ের সামনে টানা পাহারা দিয়ে আসছে পুলিশ। কার্যালয়ের সামনে সড়কের দুই পাশে বসানো হয় কাঁটাতারের ব্যারিকেড। ফুটপাত ধরেও পথচারীদের চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না, বলা হচ্ছে পথ ঘুরে যেতে। বন্ধ রয়েছে দোকানপাট। তালাবদ্ধ কার্যালয়ের ছোট গেটের সামনে নীল রঙের একটি চেয়ারে জমে আছে চিঠি। দুই পাশে প্রস্তুত রাখা হয়েছে হলুদ রঙের বেরিক্যাড। বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, নয়া পল্টনের সড়কে যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। মানুষের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে ও নিরাপত্তা দিতে পুলিশ বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
বিএনপির চলমান অবরোধের মধ্যে রোববার (৫ নভেম্বর) নয়া পল্টনের সড়কে প্রাইভেট কার, সিএনজি ও রিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে যাত্রীরা ছিলেন উৎকণ্ঠায় ও আতঙ্কে। দোকানপাঠও স্বাভাবিক হয়নি। দোকানদাররা জানান, তাদের বেচাবিক্রি একেবারে কম।
জাতীয় নির্বাচনের আগে আগে গত ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে বিএনপির সমাবেশ সংঘর্ষের কারণে পণ্ড হয়ে যায়। পরদিন হরতাল ডাকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। এরপর ৩১ অক্টোবর এবং ১ ও ২ নভেম্বর ডাকে অবরোধের কর্মসূচি। প্রথম দফার ওই অবরোধে ঢাকাসহ সারাদেশে ৩১টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়। প্রাণ যায় তিনজনের। রোববার সকাল থেকে দ্বিতীয় দফায় ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি ডেকেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী।
নয়া পল্টনে সমাবেশের পরদিন সকালেই গ্রেফতার হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে বিভিন্ন সময়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, দলের ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শাহজাহান ওমর, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও আরেক নেতা আমিনুল হকসহ অনেকে গ্রেফতার হয়েছেন।
JA




