জৈন্তাপুরে ব্র্যাক ফিশারিজের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০১:৩৩ AM

জৈন্তাপুরে ব্র্যাক ফিশারিজের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

সাইফুল ইসলাম বাবু, জৈন্তাপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬/০৬/২০২৬ ০৩:৪৫:১৪ PM

জৈন্তাপুরে ব্র্যাক ফিশারিজের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

সংগৃহীত


সিলেটের জৈন্তাপুরে মাছ চাষে আধুনিক প্রযুক্তি, মানসম্মত পোনা নির্বাচন ও স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মৎস্যচাষীদের নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (১৬ জুন) জৈন্তাপুর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করে ব্র্যাক ফিশারিজ। সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, জৈন্তাপুর।প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন অলিউর রহমান, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা, জৈন্তাপুর, সিলেট।

প্রশিক্ষণ প্রদান করেন মো. ফাইজান রেজা, প্রোডাকশন অফিসার, ব্র্যাক ফিশারিজ; ওয়াদুদ ইসলাম, অফিসার (সেলস), ব্র্যাক ফিশারিজ এবং আব্দুল মালেক, ক্ষেত্র সহকারী, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, জৈন্তাপুর।


প্রশিক্ষণে উপজেলার বাণিজ্যিক, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক মৎস্যচাষী অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা লাভজনক ও টেকসই মাছ চাষের জন্য চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এগুলো হলো— সঠিক পুকুর ব্যবস্থাপনা, মানসম্মত রেণু ও পোনা নির্বাচন, সুষম ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং জৈব নিরাপত্তাসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা।

প্রশিক্ষণে জানানো হয়, মাছের উৎপাদন শুরুর আগে পুকুর শুকিয়ে অন্তত এক সপ্তাহ রোদে রাখতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চুন প্রয়োগ করতে হবে। আগাছা ও অবাঞ্ছিত মাছ অপসারণ, পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত পানি ব্যবহার এবং নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে রোগমুক্ত ও সতেজ পোনা সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া নিয়মিত মাছের স্যাম্পলিং করে খাদ্য ব্যবস্থাপনা নির্ধারণ এবং নতুন পোনা ৭ থেকে ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণে ব্র্যাক ফিশারিজের উৎপাদিত বিভিন্ন প্রজাতির রেণু ও পোনার বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উন্নত জাতের ব্র্যাক তেলাপিয়া-২ কম খাদ্যে অধিক উৎপাদনশীল, দ্রুত বর্ধনশীল, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন এবং প্রতিকূল পরিবেশেও সহনশীল বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি কার্প ও ক্যাটফিশের উন্নতমানের, ইনব্রিডিংমুক্ত ও দ্রুত বর্ধনশীল রেণু-পোনা উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে অংশগ্রহণকারী মৎস্যচাষীদের অবহিত করা হয়।প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী মৎস্যচাষীরা জানান, এ ধরনের বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ মাছ চাষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ কমানো এবং অধিক লাভবান হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী মৎস্যজীবীদের মধ্যে একটি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে প্রশিক্ষণে আলোচিত বিষয়গুলোর ওপর প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়। পরে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী তিনজন মৎস্যজীবীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত মৎস্যচাষীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা