সাইবার অ*পরাধ রুখতে জনসচেতনতা জরুরি: এমপি এমরান
সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৫ PM

সাইবার অ*পরাধ রুখতে জনসচেতনতা জরুরি: এমপি এমরান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭/০৮/২০২৬ ০৯:২৮:১৯ PM

সাইবার অ*পরাধ রুখতে জনসচেতনতা জরুরি: এমপি এমরান

ছবি:সংগৃহীত


সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ও অসচেতন ব্যবহারের কারণে সাইবার বুলিং, হ্যাকিংসহ নানা ধরনের অপরাধ বাড়ছে। এসব অপরাধ থেকে নিরাপদ থাকতে প্রযুক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে গোলাপগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমসি একাডেমিতে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সচেতনতামূলক সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ডিজিটাল প্রযুক্তির সুফল আমরা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভোগ করছি। কিন্তু মুদ্রার যেমন দুটি পিঠ থাকে, তেমনি প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ও অসচেতন ব্যবহারের ফলে আমরা নতুন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি। এর অন্যতম বড় উদাহরণ সাইবার অপরাধ।

তিনি বলেন, সাইবার অপরাধের নানা ধরন থাকলেও বর্তমানে সাইবার বুলিং ও হ্যাকিং মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক হিসাব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরি করছে। এসব অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার কাজ করছে। তবে শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; এজন্য জনগণকে সচেতন হতে হবে।

অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানরা ইন্টারনেটে কী করছে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। তবে শাস্তির ভয় দেখিয়ে নয়, বন্ধুর মতো তাদের বুঝিয়ে পাশে দাঁড়াতে হবে।

সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, হ্যাকিং ও প্রতারণা থেকে নিরাপদ থাকতে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু এবং অপরিচিত বা সন্দেহজনক লিংক, ই-মেইল ও মেসেজে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ বা আর্থিক তথ্য আদান-প্রদান না করার পরামর্শ দেন তিনি।

ডিআইজি বলেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সাইবার হেল্পলাইন ও বিশেষায়িত সাইবার ক্রাইম ইউনিট রয়েছে। তবে শুধু আইন দিয়ে বা সরকারের একার পক্ষে সাইবার বিশ্বকে পুরোপুরি নিরাপদ করা সম্ভব নয়। এজন্য জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। কেউ সাইবার বুলিং বা হ্যাকিংয়ের শিকার হলে ভয় না পেয়ে পরিবারকে জানানো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এমসি একাডেমির অধ্যক্ষ ভানুজ কান্তি ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম।

সভায় পুলিশের উদ্যোগে সাইবার বুলিং, হ্যাকিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতামূলক ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি পরিদর্শন

এদিকে, সোমবার দুপুরে উপজেলার আমুড়া ইউনিয়নের ধারাবহর গ্রামের বাসিন্দা মান্না আহমদের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি পরিদর্শন করেন এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী। মঙ্গলবার ভোরে আগুনে মান্না আহমদের বসতঘরের চারটি কক্ষ সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।

পরিদর্শনকালে এমপি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ