সংগৃহীত
দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণসহ চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তৃতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার গুলনী চা-বাগানের শ্রমিকরা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে বাগানের নারী-পুরুষ শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ চলাকালে শ্রমিকরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
শ্রমিকদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন, বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, চা শ্রমিকদের নিজস্ব ভূমির আইনি অধিকার ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং চা শ্রমিক ইউনিয়নের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন।
গুলনী চা-বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় কুর্মীর সভাপতিত্বে এবং যুবনেতা লিটন সাঁওতালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন চা শ্রমিক নেতা মিঠুন কুর্মী, যুবনেতা যতিন সিং ছত্রী, সবুজ কুর্মী, নারী চা শ্রমিক নাজমিন বেগম, মালা বিশ্বাস, গীতা মুদি ও বিনা মুদি।
সভাপতির বক্তব্যে মৃত্যুঞ্জয় কুর্মী বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে পালতে পারছে, কিন্তু দেড় লাখ চা শ্রমিককে পালতে পারছে না। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক।’
তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান মজুরি দিয়ে চা শ্রমিকদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি, ভূমির অধিকার ও মৌলিক বিভিন্ন অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাই শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে চা শ্রমিক নেতারা বলেন, চা শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাঁদের জীবনযাত্রার মান ও মজুরি এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ন্যায্য মজুরি ও অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজন হলে রাজপথে যেতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
শ্রমিকরা জানান, দাবি আদায় না হলে আগামীতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ




