ছবি:সংগৃহীত
সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলের পর সিলেটে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে দুজন এখনো নিয়োগপত্র পাননি। তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে বিভিন্ন জেলায় কিছু প্রার্থী নিয়োগপত্র থেকে বাদ পড়লেও পরবর্তী সময়ে তাঁদের অনেককেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে কয়েকটি জেলায় এখনো কিছু প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটে সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও দুজন এখনো নিয়োগপত্র পাননি। তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকার বিষয়টি যাচাইয়ের পর নিয়োগের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
দেশের ২৫ জেলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৫ জেলায় এখনো ৪৪ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। এর মধ্যে খুলনায় সুপারিশ পাওয়া ২৭৫ জনের মধ্যে ২৬৩ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। ১০ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি এবং দুজন এখনো নিয়োগপত্র পাননি।
এ ছাড়া বরিশালে ২, বরগুনায় ৪, পিরোজপুরে ২, মানিকগঞ্জে ১, সিলেটে ২, শরীয়তপুরে ৩, নীলফামারীতে ১, ঝিনাইদহে ২, কুড়িগ্রামে ১, পঞ্চগড়ে ৬, জামালপুরে ৭, নেত্রকোনায় ৩, ফরিদপুরে ২ ও কুমিল্লায় ৮ জন প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র পাননি।
ঝিনাইদহে নিয়োগপত্র না পাওয়া দুজনের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে মামলা এবং অপরজনের স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে জটিলতা রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে সিলেটে নিয়োগপত্র না পাওয়া দুজনের নামেও ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
তবে নড়াইল, পাবনা, লক্ষ্মীপুর, ঝালকাঠি, মৌলভীবাজার, গাজীপুর, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও, কুষ্টিয়া ও চাঁদপুরে সুপারিশ পাওয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া সবাই নিয়োগপত্র পেয়েছেন।
সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এরপর নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থীদের তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই করে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলো। তখন দেখা যায়, আগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়া অনেক প্রার্থীর নাম নিয়োগের তালিকায় নেই। বাদ পড়া প্রার্থীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সারা দেশে দুই হাজারের বেশি প্রার্থী নিয়োগ থেকে বাদ পড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুপারিশপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশ গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক মন্তব্যের কারণে প্রথম পর্যায়ে নিয়োগপত্র পাননি। পরে বাদ পড়া প্রার্থীরা নিয়োগের দাবিতে ঢাকার শাহবাগসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়।
এরপর পর্যায়ক্রমে বাদ পড়া প্রার্থীদের একটি অংশকে নিয়োগের তালিকায় যুক্ত করা হয়। বিভিন্ন জেলার প্রার্থীরা আন্দোলন ও অনশন শুরু করলে কয়েক দফায় তাঁদের নিয়োগপত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ময়মনসিংহে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছিলেন ২৫৯ জন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। বাকি ২৪১ জনের মধ্যে প্রথম দুই দফায় ২১৯ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।
নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা অনশন শুরু করলে গত বুধবার রাত ১২টার পর আরও ২০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। এখনো দুজন নিয়োগপত্র পাননি।
ময়মনসিংহের মতো দেশের বিভিন্ন জেলায়ও প্রথম দিকে বাদ পড়া অধিকাংশ প্রার্থী পরবর্তী সময়ে নিয়োগপত্র পেয়েছেন। তবে কয়েকটি জেলায় এখনো কিছু প্রার্থী নিয়োগপত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন।
নিয়োগপত্র পাওয়া প্রার্থীদের যোগদানের শেষ দিন ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। তবে শেষ দিন পর্যন্ত সারা দেশে ঠিক কতজন প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি, সে তথ্য এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুর রহিম জানান, সব তথ্য একত্র করার পর রোববার নাগাদ কতজন প্রার্থী কাজে যোগ দিয়েছেন এবং কতজন যোগ দেননি, সে বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে। যে অল্পসংখ্যক প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র পাননি, তাঁদের বিষয়ে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে।
নিয়োগপত্র পাওয়া অধিকাংশ সহকারী শিক্ষক গতকাল নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদান করেছেন। তবে কেউ কেউ নিয়োগপত্র পেয়েও কাজে যোগ দেননি।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সেখানে ১১ জন নিয়োগপত্র পাওয়ার পরও যোগদান করেননি। সাধারণত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে পরে ওই চাকরিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকে না।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়োগপত্র পাওয়ার পরও যারা যোগদান করেননি, তাঁদের অনেকে হয়তো অন্য চাকরিতে চলে গেছেন। তবে অসুস্থতাসহ বিশেষ কোনো কারণে কেউ যোগদান করতে না পারলে তা বিবেচনার সুযোগ থাকতে পারে।
নতুন নিয়োগ পাওয়া সহকারী শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে পদায়ন শুরু হবে আগামী ১১ অক্টোবর। এর আগে ৪ অক্টোবর পদায়নের কথা জানানো হয়েছিল।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




