ভাড়াবাড়ির ঠিকানা থাকায় শিক্ষক নিয়োগে আটকে গেলেন মিশন
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৪ PM

ভাড়াবাড়ির ঠিকানা থাকায় শিক্ষক নিয়োগে আটকে গেলেন মিশন

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২/১০/২০২৬ ১০:২২:৪১ PM

ভাড়াবাড়ির ঠিকানা থাকায় শিক্ষক নিয়োগে আটকে গেলেন মিশন

সংগৃহীত


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেন ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান পাড়ার বাসিন্দা মিশন আচার্য। নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্তও হয়েছেন তিনি। কিন্তু নিজেদের কোনো ভিটেবাড়ি না থাকায় নিয়োগপত্র পাচ্ছেন না। এখন এই নিয়োগপত্রের আশায় সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরছেন তিনি।মিশন আচার্য বলেন, ‘শহরের কলাবাগানে ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকি আমি। মা ময়না আচার্য গৃহপরিচারিকার কাজ করে আমাকে পড়ালেখা করিয়েছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে আমার সঙ্গে যে ১৮২ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। দুইজন নিয়োগপত্র পাইনি। অন্য একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। আর আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে স্থায়ী ঠিকানা না পেয়ে। স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় চাকরির আবেদনে আমি ভাড়া বাসার ঠিকানা দিয়েছি।’

তিনি জানান, তারা দুই ভাই। বড় ভাই শৈলেন আচার্য অন্যের সঙ্গে কাপড়ের ব্যবসা করেন। বাবা নন্দ আচার্যের বাড়ি ছিল যশোর। তার মা ময়না আচার্যের সঙ্গে বিয়ের পর ঝিনাইদহে থাকতেন। মাকে কখনো যশোর নিয়ে যাননি। ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগানে ভাড়া বাড়িতে ছিল তাদের সংসার। মায়ের কাছ থেকে তিনি যতটুকু শুনেছেন, ঝিনাইদহে থাকা অবস্থায় তার বড় ভাইয়ের জন্ম হয়। তিনি মায়ের গর্ভে এলে বাবা বাড়ি ছেড়ে চলে যান, আর কখনো ফিরে আসেননি।মিশন আচার্য বলেন, ‘বাবা চলে যাওয়ার পর মা অসহায় হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় তিনি অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ শুরু করেন। এভাবেই তাদের দুই ভাইকে বড় করেছেন। বড় ভাই সংসারের চাপে বেশি পড়ালেখা করতে পারেননি। তবে আমি এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলে মায়ের কষ্ট হলেও আমাকে পড়ালেখা করিয়েছেন। এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪ দশমিক ৮৩ পেয়ে পাস করার পর ভর্তি হই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পূর্ণ করি।’

মিশন আচার্য জানান, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় তিনি সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি শুধু স্থায়ী ঠিকানা না থাকার কারনে। তিনি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, জেলা প্রশাসকের দপ্তরে খোঁজ নিতে গেলে তাকে জানানো হয়, তার কোনো স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যায়নি। তাই তাকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকায় শহিদুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকে মিশন আচার্যের পরিবার। তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা কলাবাগান। তার সব শিক্ষাসনদে কলাবাগানের ঠিকানা রয়েছে। চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর তার এ বাসায় গিয়ে পুলিশি যাচাইও সম্পন্ন হয়। তার পরও তাকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।

মিশন আচার্যের মায়ের বাবার বাড়ি সদর উপজেলার পণ্ডিতপুর গ্রামে। তাদের কোনো ভিটেবাড়ি না থাকায় মামা বিষ্ণুপদ বিশ্বাস সেই পণ্ডিতপুরে বাড়ি করার জন্য ২০২২ সালে তাকে দুই শতক জমিও দিয়েছেন। কিন্তু বাড়ি করা সম্ভব হয়নি। ইচ্ছা ছিল চাকরি পাওয়ার পর সেখানে বাড়ি করে পরিবার নিয়ে থাকবেন।জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন জানান, মিশন আচার্য ও তার বন্ধুরা এসে অভিযোগ দেওয়ার পর তিনি ব্যবস্থা নিয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্রুত একটা সমাধান হবে বলে আশা করছেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়ে স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে একটি জটিলতা দেখা দিয়েছে। তার সঙ্গে মিশন আচার্যের কথা হয়েছে। তার আবেদনটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান হবে বলে তিনি আশা করছেন।

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা



শীর্ষ সংবাদ:

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে সিলেটে দুই প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র পাননি
সিলেটে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৯ জন
সিলেটে ১৮ লাখ টাকার চো'রাচালানের পণ্য জ'ব্দ
কুলাউড়ায় নার্সারি পুঞ্জিতে ৯ হাজারের বেশি পানগাছ কে/টে ফেলার অভিযোগ
নতুন ওয়ার্ডগুলোতে নগরের সব সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে : সিসিক প্রশাসক
ছাত্রকে ব/লা/ৎ/কা/রের চেষ্টার অভিযোগে কাজীরবাজার মাদ্রাসার শিক্ষক গ্রে/ফতার
সুরমার পাড়ে বর্জ্য ফেললে কঠোর শাস্তি’ - সিসিক প্রশাসক
৬ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকশূন্য বিদ্যালয়
গোয়াইনঘাট সীমান্তে ভারতীয় অ/স্ত্র-গু/লি, ম/দসহ কোটি টাকার পণ্য জব্দ
কুলাউড়ায় ব্যক্তি উদ্যোগে দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা সংস্কার