ছবি:সংগৃহীত
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার বড়গাঁও গ্রামে অবস্থিত শ্রী শচীমাতা স্মৃতি তীর্থ আনন্দধামে অনুষ্ঠিত হলো হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠান। দামোদর ব্রত উপলক্ষে আয়োজিত এ আধ্যাত্মিক উৎসবে দিনভর ভজন, কীর্তন, ভাগবত পাঠ ও প্রার্থনায় মুখর ছিল ধাম প্রাঙ্গণ। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আগত ভক্তদের উপস্থিতিতে উৎসবটি পরিণত হয় এক মহামিলনের মঞ্চে।
বৃহস্পতিবার দিনভর শ্রী শচীমাতা স্মৃতি তীর্থ আনন্দধামে অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র দামোদর ব্রত উপলক্ষে হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন উৎসব। ভোর থেকে শুরু হয় ভজন, কীর্তন, ভাগবত আলোচনা ও প্রার্থনা। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভক্তদের পদচারণায় উৎসবস্থল মুখরিত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ভক্তদের একটি দল সিলেটের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ মন্দির থেকে পায়ে হেঁটে (ব্রজপদে) যাত্রা শুরু করে। তাঁরা ঢাকা দক্ষিণের শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নিত্যলীলা ভূমিতে পৌঁছে কীর্তন ও সেবায় অংশগ্রহণ করেন। পরে বিকেলে তারা আবার শচীমাতা স্মৃতি ধামে ফিরে এসে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
ব্রত পালনকারী শচীমায়ের ভক্তরা জানান, দামোদর মাসব্যাপী তারা হরিনামের জপ, উপবাস, ভাগবত পাঠ এবং সেবাকাজে নিয়োজিত ছিলেন। কেউ ফলাহার, কেউ পঞ্চগব্য সেবন, আবার কেউ নিরামিষ ভোজন ও অভ্যন্তরীণ শুদ্ধিকরণের প্রতীকী ধর্মাচার পালন করেন। দীর্ঘ ভজন ও পদযাত্রা শেষে ভক্তরা জানান, ‘ভগবানের নামের শক্তি ও শচীমায়ের কৃপা আমাদের শক্তি দিয়েছে, ক্লান্তি নেই।’
শচীমাতা স্মৃতি তীর্থ ধামের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ সর্বেশ্বর গোবিন্দ দাস ব্রহ্মচারী বলেন, “এই ধামে দামোদর ব্রত পালন শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও প্রেমের পথ। শ্রীজগন্মাতা শচীদেবী ভক্তের জীবনে যে আলোর দিশা দেন, আজকের দিন তারই প্রতিফলন।”
ভক্তরা মনে করেন, বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক ইতিহাসে শচীমাতার আবির্ভাব এখন ক্রমে দৃশ্যমান, আর বড়গাঁওয়ের এই তীর্থভূমি ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হয়ে উঠছে।
রাতে হাজারও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে ধাম প্রাঙ্গণ আলোকিত হয়ে ওঠে। প্রার্থনা, হরিনামসংকীর্তন ও ভক্তদের আত্মসমর্পণমূলক সেবার মধ্য দিয়ে শেষ হয় শ্রী শচীমাতা স্মৃতি তীর্থের এই আধ্যাত্মিক উৎসব।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




