ছবি:সংগৃহীত
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম সাকিব আল হাসান। তাঁর পর তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও লিটন দাসও খেলেছেন এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে। এবার সেই তালিকায় নতুন করে আলো ছড়াচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে সিপিএলে অভিষেকেই বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করছেন তিনি।
টানা তিন ম্যাচে মিরাজ নিয়েছেন ৯ উইকেট। তাঁর বোলিং ইকোনমি ৬.৭৭। সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয় হলো, নতুন বল হাতে পাওয়ারপ্লেতেই বোলিং করতে হচ্ছে তাঁকে। সেই দায়িত্বও দারুণভাবে সামলাচ্ছেন বাংলাদেশের এই অফ স্পিনার।
টুর্নামেন্টের শেষ দিকে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সে সুযোগ পান মিরাজ। আফগানিস্তানের অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী ভারত সিরিজের কারণে সিপিএল ছেড়ে গেলে তাঁর জায়গায় দলে নেওয়া হয় মিরাজকে।
নবী সিপিএল ছাড়ার সময় ১৪ উইকেট নিয়ে গায়ানার সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন। তাঁর জায়গা পূরণ করা সহজ ছিল না। এর ওপর টি-টোয়েন্টিতে মিরাজের বোলিং নিয়েও ছিল নানা প্রশ্ন। কিন্তু মাঠে নেমেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
সিপিএলে সাকিবের দাপট
সিপিএলে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। ছয় মৌসুমে চারটি দলের হয়ে ৪৭ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টস, অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনস, জ্যামাইকা তালাওয়াস ও গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে খেলে সাকিব করেছেন ৬২৮ রান এবং নিয়েছেন ৪৩ উইকেট।
সিপিএলের ইতিহাসে সেরা বোলিং ফিগারও সাকিবের দখলে। ২০১৩ সালে বার্বাডোজের হয়ে মাত্র ৬ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এখনো অক্ষত রয়েছে তাঁর সেই রেকর্ড।
তামিমের ১৬২ রান
সিপিএলে তামিম ইকবাল খেলেছেন মাত্র এক মৌসুম। ২০১৩ সালে সেন্ট লুসিয়ার হয়ে সাত ম্যাচে ১৬২ রান করেন বাংলাদেশের এই বাঁহাতি ওপেনার। তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ১০৫.১৯।
মাহমুদউল্লাহর ৯৮ রান, ৭ উইকেট
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ সিপিএলে খেলেছেন দুই মৌসুম। ২০১৭ সালে জ্যামাইকা তালাওয়াস এবং ২০১৮ সালে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টসের হয়ে খেলেন তিনি।
দুই মৌসুমে ১৩ ম্যাচ খেলে মাহমুদউল্লাহ করেছেন ৯৮ রান এবং নিয়েছেন ৭ উইকেট।
লিটনের সিপিএল ক্যারিয়ার সংক্ষিপ্ত
লিটন দাস সিপিএলে খেলেছেন মাত্র দুই ম্যাচ। ২০১৯ সালে জ্যামাইকা তালাওয়াসের হয়ে খেলা ওই দুই ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ৪২ রান।
মিরাজের শুরুটাই সবচেয়ে আলোচিত
বাংলাদেশের এই চার ক্রিকেটারের পর সিপিএলে মিরাজের শুরুটা হয়েছে ব্যতিক্রমী। এর আগে ২০১৭ সালে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের দলে থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি।
এবার সুযোগ পেয়েই বল হাতে নিজের সামর্থ্য দেখাচ্ছেন মিরাজ। তবে ব্যাট হাতে এখনো প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তিন ম্যাচে তাঁর রান ১, ২ ও ১৮। সর্বশেষ ম্যাচে ১৮ রান করলেও সেটি এসেছে ২৪ বলে।
ব্যাট হাতে সাকিবেরও এবারের আসরটা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। তাঁর ব্যাটিং গড় ১৭.৪৪। বাংলাদেশের অন্য ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সও তেমন উজ্জ্বল নয়।
তবে বল হাতে মিরাজের পারফরম্যান্স এখন পর্যন্ত আলাদা করে নজর কেড়েছে। টুর্নামেন্টের শেষ দিকে দলে সুযোগ পাওয়া, মোহাম্মদ নবীর মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের জায়গা পূরণ করা এবং প্রথম তিন ম্যাচেই ৯ উইকেট-সব মিলিয়ে সিপিএলে তাঁর শুরুটা হয়েছে দুর্দান্ত।
গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স প্লে-অফে উঠেছে। ফলে মিরাজের সামনে অন্তত আরও দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, দুর্দান্ত এই শুরুটা শেষ পর্যন্ত কতটা বড় সাফল্যে রূপ দিতে পারেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




