ছবি:সংগৃহীত
সিলেট নগরের বালুচর এলাকার ঐতিহাসিক ‘করিমউল্লাহ টিলা’ কাটার অভিযোগে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ। পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. মামুনুর রশিদ বাদী হয়ে শাহপরান (রহ.) থানায় মামলাটি করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নগরের বালুচর এলাকার সাদিপুর ১ম খণ্ড মৌজায় এসএ ১৭২ নম্বর খতিয়ানের ৬৩ নম্বর দাগে অবস্থিত টিলাটি স্থানীয়ভাবে ‘করিমউল্লাহ টিলা’ নামে পরিচিত। গত ২০ এপ্রিল পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র বা অনুমোদন ছাড়াই টিলাটির একাংশ কেটে মাটি অপসারণের অভিযোগ ওঠে।
মামলায় অভিযুক্ত ১১ জন হলেন-উত্তর বালুচরের জালাল উদ্দিন (৫৬), জাহাঙ্গীর মিয়া (৫৮), মোশারফ আলী (৫৫), শাকির আহমদ (৫৩), ইউসুফ আলী (৫৭), নাজমুল (৪১), শহীদুল আলম (৪৭), জাকির হোসেন (৪৪), জসিম উদ্দিন (৫৮), জামাল উদ্দিন (৪২) ও কামাল (৪১)।
এজাহারে বলা হয়, টিলা কাটার অভিযোগ পাওয়ার পর পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে এ ঘটনায় ‘এনফোর্সমেন্ট মামলা’ (নং ৮৪/২০২৬) করা হয়। অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে গত মে মাসে দুটি শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও তারা শুনানিতে উপস্থিত হননি।
পরে প্রশাসনিক শুনানিতে সাড়া না দেওয়ায় পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ফৌজদারি মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ধারাবাহিকতায় শাহপরান (রহ.) থানায় মামলাটি করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬খ ধারায় সরকারি রেকর্ডে উল্লেখিত পাহাড় বা টিলা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া কাটা নিষিদ্ধ। একই আইনের ১৫(১) ধারায় এ অপরাধের জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
শাহপরান (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মামলা রেকর্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।
বাদী: মো. মামুনুর রশিদ, পরিদর্শক, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




