ছবি: সংগৃহীত
আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়ায় কয়েক সপ্তাহের বন্যায় কমপক্ষে ১৭০ জন মারা গেছেন। এতে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ২ লাখেরও বেশি লোক।
নাইজেরিয়ার জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনইএমএ) পক্ষে বক্তব্য রাখা মানজো এজেকিয়েল বলেন, বন্যায় দেশের উত্তরাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুষলধারে বৃষ্টিপাত এবং দুটি বৃহত্তম নদী নাইজার ও বেনুর পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় দেশের অন্যান্য অংশ এখনো ঝুঁকিতে রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে দেশের মধ্যাঞ্চল, এমনকি দক্ষিণাঞ্চলের নিচের অংশেও একই রকম বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে নাইজেরিয়ার কিছু অংশ বন্যার ঝুঁকিতে থাকে। তবে এই বছরের বন্যা এমন অঞ্চলে হয়েছে, যেখানে আগে বিরল ছিল। পরিস্থিতি এমন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন কিছু জায়গা প্লাবিত হয়েছে, যেখানে আগে বন্যা হতো না।
২০২২ সালে নাইজেরিয়ায় বন্যায় ৬০০ জনেরও বেশি লোক মারা যায়। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই বন্যায় দেশটির সবচেয়ে খারাপ রেকর্ড।
পরিবেশবিদরা নাইজেরিয়ার বার্ষিক বন্যার জন্য আংশিকভাবে দুর্বল ড্রেনেজ অবকাঠামোকেও দায়ী করেছেন। তবে দেশটির কর্তৃপক্ষ এই বন্যার জন্য গড়ের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত এবং ক্যামেরুনের লাগদো বাঁধের উপচে পড়াকে দায়ী করেছে।
গত সপ্তাহে নাইজেরিয়া হাইড্রোলজিক্যাল সার্ভিসেস এজেন্সি (এনআইএইচএসএ) সতর্ক করে দিয়েছিল, প্রতিবেশী নাইজার এবং মালি থেকে বন্যার পানি 'ধীরে ধীরে নাইজেরিয়ায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে'। নাইজার নদীর তীরে অবস্থিত রাজ্যগুলোকে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়। দেশটির আবহাওয়া সংস্থাও দেশজুড়ে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছিল।
নাইজেরিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, সাম্প্রতিক বন্যায় প্রায় দুই হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং এক লাখ হেক্টরেরও বেশি জমির কৃষি-ফসল ধ্বংস হয়েছে।
জৈন্তাবার্তা/ মনোয়ার




