হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় চলছে শারদীয় দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পীরা। এঁটেল ও বেলে মাটি ছাড়াও বাঁশ, খড়, দড়ি, লোহা, পাট, কাঠ, রঙ, বিভিন্ন রঙের ছিট কাপড় ও শাড়ি দিয়ে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
এই পূজায় দুর্গা প্রতিমার পাশাপাশি গণেশ, কার্তিক, লক্ষী, সরস্বতীর প্রতিমাকে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তুলতে হয়। মহিষাসুর, সিংহসহ সবার বাহনও কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই সেগুলোকেও দিতে হয় সমান গুরুত্ব। আর এসব মিলিয়েই পরিপূর্ণ হয় একটি দুর্গার প্রতিমা।
পৌর শহরের গোবিন্দ জিউ মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন মন্দির, বিজয় সংঘ, বিরাট ভাটিপাড়া সর্বজনীন পূজা কমিটি, পশ্চিম ভাগ সর্বজনীন পূজা কমিটি, নবজাগরণ সংঘ, গোপাল যুব সংঘ, পাহাড়পুর বাজার টার্মিনাল ব্যবসায়ী সংঘ, পাহাড়পুর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও পাহাড়পুর বাকাহাটি মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমার কাজ অধিকাংশই শেষ। রঙ আর তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে দেবীর প্রতিচ্ছবি।
মহা ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হতে হচ্ছে দুর্গাপূজা। ঢাক-ঢোল আর কাঁসরের বাদ্যে দেবীর বোধন পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এ বছর দেবী দুর্গা কৈলাস থেকে মর্তে আসবেন গজে (হাতিতে) করে। টানা ৫ দিন নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে মর্ত থেকে কৈলাসে দেবী ফিরবেন দোলায় (পালকিতে) চড়ে।
প্রতিমাশিল্পীরা জানিয়েছেন, প্রতিবছরই তারা দুর্গার প্রতিমা বানিয়ে থাকেন। এবারও তারা দিন-রাত পরিশ্রম করে পরিবারের সকলকে নিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ করে যাচ্ছেন। কিছু মণ্ডপে ছোট করে প্রতিমা বানাচ্ছে মন্দির কমিটি। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এই উদ্যোগ। এর ফলে পরিশ্রম করেও তেমন লাভবান হতে পারছেন না প্রতিমাশিল্পীরা। তারপরও বংশের ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে তাদের এই পরিশ্রম। ইতোমধ্যে প্রতিমা বানানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলছে রঙের কাজ। দৃষ্টিনন্দন রূপে সাজানো হচ্ছে প্রতিমাগুলো।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট আজমিরীগঞ্জ উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব স্বপন বণিক বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে এবারও শারদীয়া দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। মন্দিরগুলোতে কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখন শুধু প্রতিমায় রঙের কাজ চলছে। পূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট এর সদস্যরা বিভিন্ন মন্দিরের খোঁজ খবর রাখছেন। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট সবসময় সকল সনাতন ধর্মাবলম্বীর পাশে আছে এবং থাকবে। এখন শুধু পূজার আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষায়।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট আজমিরীগঞ্জ উপজেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কৃষ্ণ তালুকদার বলেন, সকলে মিলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করছি। প্রতিবছর যেভাবে উপজেলায় দুর্গাপূজা উদযাপন করা হয়, ঠিক একইভাবে এবারও দুর্গাপূজা উদযাপন করা হবে।
দুর্গাপূজায় সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় এ বছর প্রতিটি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হবে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে আনসার নিয়োগ করা থাকবে। পুলিশের টহল টিম মাঠে থাকবে। এ ছাড়াও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনিটরিং করবে। আশা করছি, আজমিরীগঞ্জবাসী মিলে একটি সুন্দর দুর্গাপূজা পালন করবেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট আজমিরীগঞ্জ উপজেলা কমিটির তথ্যমতে, এবার উপজেলায় ৩৫টি মণ্ডপে একযোগে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলা ও শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে আজমিরীগঞ্জের কালনী কুশিয়ারা নদীতে দুর্গার ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে এই উৎসব।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




