র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯) এর অভিযানে সিলেটের শাহপরাণে ফাহিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি হবিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে হবিগঞ্জ সদর থানাধীন লোকরা ইউনিয়নের কাশিপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সিলেটের শাহপরাণ (রহঃ) থানার মো. ফাহিম হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ১নং পলাতক ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম আলম খান (৩২)। তিনি সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ (রহ.) থানাধীন উত্তর বালুরচর শান্তিবাগ এলাকার মৃত জাফর আলী খানের ছেলে।
র্যাব জানায়, ফাহিম সিলেট জেলার শাহপরাণ (রহঃ) থানাধীন ছড়ারপাড় এলাকার বাসিন্দা মো. হারুন রশিদের ছেলে। পূর্বশত্রুতার জেরে ঘটনার দিন গত ১০ নভেম্বর (সোমবার) বিকাল ৫টার দিকে ১নং বিবাদীর নেতৃত্বে অন্যান্য বিবাদীগণ তাদের হাতে থাকা ধারালো দা, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, ডেগার, জিআই পাইপ, লোহার রড নিয়ে ভিকটিমের পথরোধ করে। তখন ভিকটিম কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ১নং বিবাদীর নির্দেশে অন্যান্য বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভিকটিমের ওপর আক্রমণ করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। পরবর্তীতে ১নং বিবাদী তার হাতে থাকা লম্বা ছুরি দিয়ে ভিকটিমের মাথায় আঘাত করতে গেলে ভিকটিম বাম হাত দিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। এতে ভিকটিমের বাম হাতের কব্জির রগ কেটে গভীর রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় অন্যান্য বিবাদীগণ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভিকটিমের মাথায় ও বুকে আঘাত করে এবং ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে তলপেটে ও বুকের বাম পাশে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে।
অতঃপর আশপাশের লোকজন ভিকটিমকে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করেন। পরবর্তীতে চিকিৎসা শেষে গত ১১ নভেম্বর (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে ভিকটিমকে নিয়ে সিলেট আসার পথে রাত ৩টার দিকে ভিকটিম মৃত্যুবরণ করেন।
উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে সিলেটের শাহপরাণ (রহ.) থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯ সিলেট এবং সিপিসি-৩, হবিগঞ্জ শায়েস্তাগঞ্জের একটি যৌথ আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) আনুমানিক রাত ২টার দিকে হবিগঞ্জ জেলার হবিগঞ্জ সদর থানাধীন লোকরা ইউনিয়নের কাশিপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মো. ফাহিম হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ১নং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে এসএমপি, সিলেট এর শাহপরাণ (রহঃ) থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




