সংগৃহিত
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মনু নদী থেকে উদ্ধার হওয়া এক ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে কুলাউড়া থানা পুলিশ। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেল ৬টার দিকে উপজেলার চাতলাপুর স্থলবন্দর দিয়ে মরদেহটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কৈলাশহর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হস্তান্তরের সময় উভয় দেশের স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, পুলিশ, বিজিবি ও বিএসএফের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়টি বৃহস্পতিবার রাতে নিশ্চিত করেছেন কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান মোল্যা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মে বিকেলে উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের ছৈদলবাজার এলাকার মনু নদী থেকে একটি ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উজান থেকে ভারত হয়ে আসা মনু নদী সীমান্তবর্তী শরীফপুর এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
এদিকে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কৈলাশহর এলাকার বাসিন্দা নিত্যানন্দ মালাকার (৩৫) গত ৯ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
স্থানীয়রা জানান, ১১ মে দিনের বেশ কিছু সময় মরদেহটি ছৈদলবাজার খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় নদীর ব্লকের সঙ্গে আটকে ছিল। পরে পানির স্রোতে ভেসে টিলাগাঁও ইউনিয়নের চানপুর এলাকার নদীতীরে গিয়ে আটকে পড়ে। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতে মনু নদীর পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে বলে জানান এলাকাবাসী।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায় এবং পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালায়। পরে আঙুলের ছাপ যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়, মরদেহটি বাংলাদেশের কোনো নাগরিকের নয়। পরবর্তীতে ভারতীয় পুলিশ যোগাযোগ করলে নিখোঁজ নিত্যানন্দ মালাকারের পরিচয় নিশ্চিত হয়।
কুলাউড়া থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান মোল্যা বলেন, 'নদীতে ভাসমান মরদেহ উদ্ধারের পর আমরা পরিচয় শনাক্তের কাজ শুরু করি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, মরদেহটি ভারতের দিক থেকে ভেসে এসেছে। পরে ভারতীয় পুলিশ যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত করলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।'
জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ




