কুলাউড়ায় এনসিপির দুপ/ক্ষের সং/ঘর্ষ, আ/হত ৭
শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৩০ PM

জেলা এনসিপির নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫

কুলাউড়ায় এনসিপির দুপ/ক্ষের সং/ঘর্ষ, আ/হত ৭

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮/০৮/২০২৬ ০৪:৪৬:৩৯ PM

কুলাউড়ায় এনসিপির দুপ/ক্ষের সং/ঘর্ষ, আ/হত ৭

সংগৃহীত


মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুপক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে কুলাউড়া পৌরসভার উত্তর বাজার এলাকায় একটি রেস্তোরাঁর সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় দলের এক পক্ষের করা মামলায় মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়াসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এহতেশাম হক বৃহস্পতিবার কুলাউড়ায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। এ উপলক্ষে রাতে উত্তর বাজার এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁর সঙ্গে দলীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। পরে রাত ৮টার দিকে রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার সময় এনসিপির দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষে সাফওয়ান জাহান চৌধুরী (২৮), জাবেদ রহমান (২৫), মারুফ আল হামিদ (২৬), রাজু আহমদ (২৫), সাফাকাত হোসেন (২৫), জিল্লু খান (২০) ও আরিফুল ইসলাম (২২) আহত হন। তাঁরা এনসিপি, যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে। পরে আহতরা কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এহসান জাকারিয়া, তোফায়েল আহমদ, সাহেল আহমদ, ফাহিম আহমদ ও সোহাগ মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ ও দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতে মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমদ বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, এহসান জাকারিয়া দলে পদ দেওয়ার কথা বলে তামিম আহমদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়। এ নিয়ে তামিম ফেসবুকে লেখালেখি করলে এহসান তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হন। এর জের ধরে তামিম ও তাঁর সহযোগীদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

তামিম আহমদ বলেন, তিনি মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে বড়লেখায় নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। নেতা-কর্মীদের নিয়ে রেস্তোরাঁর সামনে পৌঁছালে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের ওপর হামলা চালান। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা অভিযোগকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।

মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির সদস্যসচিব রুহুল আমিন বলেন, সিলেটের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা শেষে ফেরার সময় দলের কয়েকজন নেতা-কর্মী ও বহিরাগত কিছু লোক পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁদের ওপর হামলা চালান। ঘটনার বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে। ঘটনায় জড়িত দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম শুক্রবার সকালে মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তামিম আহমদের করা মামলায় আটক পাঁচজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মৌলভীবাজারের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ: