সংগৃহিত
হবিগঞ্জের মাধবপুরে শত শত গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ প্রিমিয়াম ও আমানতের টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের বিরুদ্ধে। গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন কার্যক্রম পরিচালনার পর হঠাৎ মাধবপুরের শাখা অফিসটি বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে অফিসে গিয়ে কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি আগে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলোতেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, তাঁদের অনেকেই নিয়মিত প্রিমিয়াম পরিশোধ করে পলিসির মেয়াদ পূর্ণ করলেও (ম্যাচিউরিটি) জমাকৃত টাকা ও মুনাফা পাননি। কেউ কেউ বছরের পর বছর অফিসে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সমাধান পাননি। এতে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামের শত শত মানুষ ভবিষ্যতের সঞ্চয় ও মুনাফার আশায় ফারইস্ট ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের মাধবপুর শাখায় বিভিন্ন মেয়াদি পলিসি খুলেছিলেন। অনেক গ্রাহক নিয়মিত প্রিমিয়াম পরিশোধ করে পলিসির মেয়াদ শেষ করেছেন। কিন্তু টাকা ফেরত পাওয়ার সময় এসে তাঁরা শাখা অফিস বন্ধ দেখতে পান।
ছাতিয়াইন ইউনিয়নের রামেশ্বর গ্রামের গ্রাহক আবিদ আলম মহরম বলেন, ‘লাভের আশায় ফারইস্ট ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে পলিসি খুলেছিলাম। নিয়ম অনুযায়ী সব প্রিমিয়াম পরিশোধ করেছি। কিন্তু এখন টাকা পাওয়ার সময় এসে অফিসের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না।’
পশ্চিম মাধবপুরের গ্রাহক শফিক মিয়াও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য, নিয়মিত প্রিমিয়াম দেওয়ার পরও পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাচ্ছেন না।
শিমুলঘরের গ্রাহক শেখ রোকন বলেন, ‘বছরের পর বছর অফিসে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। কিন্তু সঞ্চয় ও মুনাফার টাকা ফেরত পাইনি।’
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মাধবপুর শাখার কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর থেকে তাঁদের অনেকেই কোথায় এবং কার সঙ্গে যোগাযোগ করলে পাওনা টাকা ফেরত পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাচ্ছেন না। আগে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত কয়েকটি মোবাইল নম্বরও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে তাঁদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
ফারইস্ট ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের মাধবপুর শাখায় দায়িত্বশীল পদে কর্মরত ছিলেন ফরিদ আহমেদ। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণে প্রায় ৬-৭ বছর আগে আমি চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। ওই সময় অনেক গ্রাহক মুনাফার আশায় ফারইস্ট ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের মাধবপুর শাখায় পলিসি করেছিলেন। তবে তাঁরা তাঁদের জমাকৃত টাকা ও মুনাফা ফেরত পেয়েছেন কি না, তা আমার জানা নেই।’
ফারইস্ট ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের মাধবপুর শাখার সাবেক অফিস এক্সিকিউটিভ মাসুক মিয়া বলেন, ‘মাধবপুরে এর কোনো শাখা কিংবা কার্যক্রম কোনোটাই নেই। গ্রাহকেরা তাঁদের প্রয়োজনে হবিগঞ্জ শাখায় যোগাযোগ করতে পারেন।’
গ্রাহকদের অভিযোগ, শাখা অফিস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তাঁদের সঙ্গে কোম্পানির কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তার কার্যকর যোগাযোগ হচ্ছে না। ফলে নিজেদের জমা করা অর্থ আদৌ ফেরত পাবেন কি না, তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা তাঁদের জমাকৃত মূল টাকা ও প্রাপ্য মুনাফা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ




