মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাহিরপুরে পাঁচ গ্রামের সংঘ/র্ষ
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৭ AM

আহত অন্তত ২০, বাড়িঘর-দোকানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাহিরপুরে পাঁচ গ্রামের সংঘ/র্ষ

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭/১০/২০২৬ ১০:২০:৫৫ PM

মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাহিরপুরে পাঁচ গ্রামের সংঘ/র্ষ

ছবি:সংগৃহীত


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ইজিবাইকে ক্রিকেট বল লাগাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পাঁচ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা সদরের মধ্য তাহিরপুর এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তবে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী আহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

সংঘর্ষে বীরনগর গ্রামের মাইনুদ্দিন (৩৫), আশিষ মিয়া (৪০), রেজাউল (৩৫) ও খোকন মিয়া (৩৬) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে বীরজয়-লক্ষ্মী-ধুতমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন কিশোর ক্রিকেট খেলছিল। এ সময় খেলার একটি বল পাশের সড়ক দিয়ে যাওয়া মধ্য তাহিরপুর গ্রামের জালাল মিয়ার ইজিবাইকে গিয়ে পড়ে। এ নিয়ে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের হাফিজ মিয়ার সঙ্গে ক্রিকেট খেলোয়াড়দের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

এর জেরে ওই দিন বিকেলে তাহিরপুর বাজারে ধুতমা গ্রামের জসিম উদ্দিনকে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের কয়েকজন মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বীরনগর গ্রামের কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাফিজ মিয়াকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব পাল্টাপাল্টি মারধরের ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে বীরনগর গ্রামের একটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, বুধবার সকালে বীরনগর, জয়নগর, লক্ষ্মীপুর ও ধুতমা গ্রামের লোকজনকে যার কাছে যা আছে তা নিয়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়। মাইকিংয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ রাতেই এলাকায় অবস্থান নেয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করারও চেষ্টা করা হয়। তবে বিরোধের সমাধান হয়নি।

বুধবার দুপুরে বীরনগর, জয়নগর, লক্ষ্মীপুর ও ধুতমা গ্রামের লোকজন মধ্য তাহিরপুর এলাকায় জড়ো হলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এক পক্ষ মধ্য তাহিরপুর এলাকায় হামলা চালায়। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের আলকাছ মিয়ার একটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। 

পরে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। তাহিরপুর-জামালগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের সড়কসহ আশপাশের এলাকায় সংঘর্ষ চলে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকার চলাচলও ব্যাহত হয়।

স্থানীয় কয়েকটি সূত্রে ২০ থেকে ৩০টি বসতঘর এবং চারটি দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মধ্য তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাইকিং করে লোকজন জড়ো করা হয়। পরে বিপুলসংখ্যক মানুষ এসে তাঁদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অন্যদিকে বীরনগর গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল মিয়া বলেন, শিশুদের ক্রিকেট খেলার সময় ইজিবাইকে বল পড়াকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত। পরে দুই পক্ষের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। বুধবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসনের উদ্যোগে তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, কয়েক দিন আগে ঘটে যাওয়া একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মাইকিংয়ের খবর পেয়ে পুলিশ আগের রাত থেকেই এলাকায় অবস্থান নিয়েছিল এবং দুই পক্ষকে সংঘর্ষে না জড়ানোর জন্য বোঝানোর চেষ্টা করে। 

পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা বা আটকের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। 



জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ