তৃণমূলে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে: মঈন খান
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন

তৃণমূলে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে: মঈন খান

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮/১০/২০২৬ ০৮:৩১:২০ অপরাহ্ন

তৃণমূলে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে: মঈন খান

ছবি:সংগৃহীত


তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব বিকেন্দ্রীকরণ ছাড়া দেশে কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এমপি।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। মানুষকে ছোটখাটো সেবা নিতে কিংবা প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে রাজধানীতে ছুটে আসতে হলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। জনগণ যেন নিজ নিজ এলাকায় বসেই প্রয়োজনীয় সেবা পায়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানের গ্র্যান্ড বলরুমে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘লোকাল গভর্নমেন্ট কভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকোভারি প্রজেক্ট (এলজিসিআরআরপি)’ আয়োজিত জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যেকোনো উদ্যোগের সবচেয়ে কঠিন ধাপ হচ্ছে এর বাস্তবায়ন। এলজিসিআরআরপি প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নে কাজ করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, বিশ্বব্যাংক, অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান তিনি। এ প্রকল্পের সাফল্য ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব প্রকল্প গ্রহণের পথ তৈরি করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, কোনো প্রকল্প গ্রহণ ও শেষ করাই যথেষ্ট নয়। একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তা ভবিষ্যৎ উদ্যোগে কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে যে জনগোষ্ঠীর জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে প্রকল্পটির মালিকানা ও অংশগ্রহণের অনুভূতি তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ঢাকামুখী মানুষের চাপ কমাতে হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও ক্ষমতাবান করতে হবে। মানুষ কেন রাজধানীতে আসে, সেই সমস্যার গভীরে গিয়ে সমাধান করতে হবে। জন্মনিবন্ধনের মতো সাধারণ সেবা পেতেও যদি প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে মন্ত্রণালয়ে আসতে হয়, তাহলে তা দেশের শাসনব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যারই বহিঃপ্রকাশ।

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার হচ্ছে গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি। গণতন্ত্র শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হলে হবে না; এর ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে তৃণমূল পর্যায় থেকে। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি আরও মজবুত করা সম্ভব।’

স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে এ উদ্যোগ আরও গতিশীল করা হবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনকে আরও জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নাগরিকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং নগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সিসিক প্রশাসক বলেন, নগরীর সড়ক, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি ও অন্যান্য নাগরিকসেবার মান উন্নয়নে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের সমস্যা সরেজমিনে চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নগর উন্নয়নকে টেকসই করতে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ থাকলে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও আধুনিক সিলেট গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য কবির আহামদ, বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের প্রধান জেন পেসমি এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ