ছবি:সংগৃহীত
রাত নামলেই সিলেট নগরের বিভিন্ন সড়কের মোড়, চায়ের দোকান কিংবা অলিগলিতে কিশোর-তরুণদের জটলা ছিল নিত্যদিনের চিত্র। কোথাও আড্ডা, কোথাও মোটরসাইকেল নিয়ে ঘোরাঘুরি, আবার কোথাও চলত নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ। তবে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) সাম্প্রতিক বিশেষ অভিযানে বদলে গেছে রাতের সেই চিত্র। অনেকটাই ফাঁকা হয়ে আসছে নগরের ব্যস্ত পয়েন্ট ও আড্ডাস্থল।
কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, মাদক ও জুয়া ঠেকাতে গত ৪ অক্টোবর থেকে বিশেষ অভিযান শুরু করে এসএমপি। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত এ অভিযানে ২২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৬৪ জনকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ১৬১ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা পেয়েছেন আরও দুজন।
পুলিশের তথ্যমতে, থানাভিত্তিক গ্রেপ্তারের হিসাবে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে দক্ষিণ সুরমা ও কোতোয়ালি থানায়। দক্ষিণ সুরমায় ৭০ জন এবং কোতোয়ালি থানায় ৬৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া জালালাবাদ থানায় ২৬ জন, এয়ারপোর্ট থানায় ২৮ জন, মোগলাবাজার থানায় ১৯ জন এবং শাহপরান (রহ.) থানায় ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরের বিভিন্ন এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি চায়ের দোকান, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন আড্ডাস্থলেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এসএমপির এ তৎপরতার প্রভাব পড়েছে নগরের রাতের চিত্রে। আগে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যেসব এলাকায় কিশোর-তরুণদের আড্ডা জমে উঠত, সেসব স্থান এখন অনেকটাই ফাঁকা। রাস্তার পাশে, দোকানের সামনে কিংবা নির্জন অলিগলিতে অপ্রয়োজনীয় জটলাও কমে এসেছে।
নগরবাসীর কয়েকজন জানান, রাতের বেলায় বিভিন্ন স্থানে কিশোর-তরুণদের জটলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ ছিল। বিশেষ করে ছিনতাই, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযান আপাতত স্বস্তি তৈরি করেছে।
তবে নগরবাসীর মতে, সাময়িক অভিযান নয়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের তৎপরতা নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদি হওয়া প্রয়োজন। পুলিশের অভিযানের কারণে রাতের আড্ডা কমে এলেও প্রকৃত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব কতটা পড়ে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক অভিযানের আগে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর ও তরুণদের আড্ডা জমে উঠত। কোথাও রাস্তার পাশে, কোথাও দোকানের সামনে আবার কোথাও নির্জন অলিগলিতে চলত এসব জটলা। এসএমপির বিশেষ অভিযানের পর সেই চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




