আজমিরীগঞ্জে জমে উঠেছে পিঠা বিক্রি
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০২ অপরাহ্ন

আজমিরীগঞ্জে জমে উঠেছে পিঠা বিক্রি

আশিকুর রহমান, আজমিরীগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯/০১/২০২৫ ০৩:০৪:০৭ পূর্বাহ্ন

আজমিরীগঞ্জে জমে উঠেছে পিঠা বিক্রি

ছবি নিজস্ব


শীত মৌসুমে প্রতিটি বাড়িতে পিঠাপুলি বানানোর অয়োজন গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। কিন্তু সময়ের পবিবর্তনে ঘরে ঘরে পিঠাপুলি তৈরির আয়োজন এখন আর তেমন একটা চোখে পড়ে না। ব্যস্ততা ও পারিপার্শ্বিক সমস্যায় নিজ হাতে পিঠাপুলি তৈরির আয়োজন কমে গেলেও পিঠাপ্রীতি ও ভোজন থেমে নেই। পিঠাপ্রেমীরা এখন দোকানের পিঠার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। বাড়িতে পিঠা বানানোর ঝামেলা এড়াতে অনেকেই দোকান থেকে পিঠা ক্রয় করে স্বাদ মেটাচ্ছেন। আর এ পিঠা বিক্রি করেই জীবিকা চালাচ্ছেন অনেকে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, চুলার অল্প আঁচে ধোঁয়া উঠছে। তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু চিতই, ভাপাসহ অন্যান্য পিঠা। আর চুলা থেকে নামানোর পর মুহূর্তেই তা চলে যাচ্ছে অপেক্ষমাণ ক্রেতার হাতে। শীত বাড়ার সাথে সাথে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের বাজারগুলোর ফুটপাতে পড়েছে শীতকালীন পিঠা বিক্রির ধুম। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে শুরু করে বেশ রাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলছে। চিতই পিঠা, ভাপা পিঠাসহ নানা পদের পিঠা বিক্রি হচ্ছে ফুটপাতের এ দোকানগুলোতে। তবে চিতই বা স্থানীয় ভাষায় কাঁচিখোঁচা পিঠার চাহিদা বেশি।

শহরের পুরাতন স্টেডিয়াম এলাকার পিঠা বিক্রেতা আজমিরীগঞ্জ বাজারের মিজানুর রহমান জানান, প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করেন তিনি। পিঠার সাথে শুঁটকি, মরিচ, শর্ষে ভর্তা ও গুড়-নারকেল দেওয়া হয়। ভর্তাগুলো বিনামূল্যে দেওয়া হলেও নারকেল পিঠাপ্রতি দশ টাকা করে নেওয়া হয়। আর প্রতিটি চিতই পিঠার জন্য নেওয়া হয় ৫ টাকা করে। পিঠা বিক্রি করে প্রতিদিন তার বেশ উপার্জন হয়। পুরো শীত মৌসুমে তার আয় ভালোই হবে বলে জানান তিনি।

শুধু আজমিরীগঞ্জ বাজারেই নয়, উপজেলার প্রতিটি বাজারেই শীতের শুরু থেকেই অলি-গলি, পাড়া-মহল্লা ও হাট-বাজারে পিঠাপুলির পসরা সাজিয়ে বসেছেন মৌসুমি পিঠা ব্যবসায়ীরা। বাহারি সব পিঠাপুলি নজর কাড়ছে পিঠাপ্রেমীদের। পড়ন্ত বিকেল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা হয়ে বেশ রাত পর্যন্ত পিঠাপুলির দোকানগুলোতে বিক্রির ধুম চলে। সন্ধ্যার পর থেকেই উপজেলায় জনবহুল অলি-গলি ও রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে দাঁড়িয়ে বা বসে লাইন দিয়ে পিঠা খেতে দেখা যায় অনেককেই। কেউবা নিয়ে পিঠা কিনে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যদের জন্য।

পিরোজপুর বাজারের এক পিঠা বিক্রেতা বলেন, বছরের এই সময়টায় শীতকালীন পিঠা বিক্রি বেশি হয়। বর্তমানে চিতই ও ভাপা পিঠা তৈরি করছি। আর চিতই ও ভাপা পিঠা খাওয়ার জন্য থাকছে অনেক পদের ভর্তা। এই ব্যবসায় আগে ভালো লাভ পাওয়া গেলেও এখন সবকিছুর দাম অতিরিক্ত হওয়ায় লাভ তেমন নেই। তবে যা উপার্জন হয়, তাও একেবারে কম না।

জৈন্তা বার্তা/আরআর