লাখাইয়ে ঈদকে সামনে রেখে পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত খামারিরা
রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৫ PM

লাখাইয়ে ঈদকে সামনে রেখে পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত খামারিরা

আশীষ দাশ গুপ্ত, লাখাই প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৯/০৫/২০২৫ ০৯:৪৪:৪২ AM

লাখাইয়ে ঈদকে সামনে রেখে পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত খামারিরা

ছবি: নিজস্ব


চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৭ জুন দেশে ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে। ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কোরবানির পশুর প্রস্তুতিও এখন তুঙ্গে। হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় রেজিস্ট্রেশনকৃত ৭৫টি বাণিজ্যিক খামারসহ অন্যান্য খামারিগণ এখন কোরবানির পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। বুধবার উপজেলার চরগাঁও একতা এগ্রো ফার্ম ও সুবিদপুর গ্রামের আকাইদ মিয়ার ফার্মে গিয়ে পশু পরিচর্যার ব্যস্ততা দেখা গেছে। 

উপজেলা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এ বছর লাখাইয়ে কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে ৪ হাজার ৭৭৮টি আর চাহিদা ৪ হাজার। অর্থাৎ উপজেলায় চাহিদার তুলনায় ৭৭৮টি পশু বেশি রয়েছে। এসব পশুর মধ্যে গরু ৩৮৩৯টি, ছাগল ৬১৫টি, ভেড়া ৩১৪টি ও মহিষ ১০টি। 

খামারিরা জানান, কয়েকদিন পরেই পুরোদমে শুরু হবে কোরবানির পশু কেনা-বেচা। তাই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। গরুগুলোকে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে পালন করা হয়েছে। প্রতিদিন দুই বেলা প্রাকৃতিক খাদ্য যেমন- ভুট্টা, খৈল, ব্রান্ড, কাঁচা ঘাস, গমের ভুসি ও খড় খাওয়ানো হয়। গোসল করানো হয় প্রায় প্রতিদিনই। প্রতিনিয়ত পশুর থাকার জায়গা পরিষ্কার রাখা হয়। এছাড়া সার্বক্ষণিক ফ্যান চালিয়ে পরিবেশ ঠিক রাখা হয়। পশুখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় পশু পালনে খরচ অনেকটা বেড়েছে। যে পরিমাণ দেশি গরু-ছাগল প্রস্তুত রয়েছে, তা দিয়েই এ উপজেলার কোরবানির পশুর চাহিদা মেটানো সম্ভব। তাই চোরাই পথে যাতে বাইরের পশু ঢুকতে না পারে, সেদিকে নজর রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। 

একতা এগ্রো ফার্মের মালিক ইব্রাহিম তালুকদার এ প্রতিবেদককে জানান, তার ফার্মে ২৪টি গরু প্রাকৃতিক ঘাস খাইয়ে লালন-পালন করা হয়েছে। সকল গরু ১৫ লক্ষাধিক টাকায় বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। 

শুভ নামে এক গৃহস্থ বলেন, ৩টি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছি। গরু ৩টির দাম সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা হাঁকাচ্ছি। ক্রেতারা সাড়ে ৩ লক্ষ থেকে তিন লক্ষ ৬০ হাজার বলছে। দাম ভালো পেলে বিক্রি করে দেবো। 

স্বজন গ্রামের মানিক মিয়া জানান, তিনি গত বছর দুটি ষাঁড় ক্রয় করে এনে এক বছর ধরে পরিচর্যা করছেন এবারের ঈদে বিক্রি করার জন্য। 

মোড়াকরি গ্রামের এক খামারি জানান, কোরবানির জন্য ১০টি গরু বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পশুখাদ্যের ক্ষেত্রে বাড়তি খরচ হওয়ায় নায্যমূল্য পাবেন কি না এ নিয়ে চিন্তিত তিনি। গতবছরের তুলনায় এবার দাম কম বলছেন ক্রেতারা। এছাড়া বৈরী আবহাওয়া নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। 

মনিরুজ্জামান নামে একজন বলেন, দেশীয় পদ্ধতি খড়, খৈল, ভুসি ও ঘাস খাইয়ে ১৫টি গরু মোটাতাজাকরণ করেছি কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য। দেশের বাইরে থেকে গরু আমদানি বন্ধ করতে পারলে নায্য দাম পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। 

লাখাই উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা সাইফুল বলেন, গরুকে নিষিদ্ধ কোনো রাসায়নিক ও হরমোন ওষুধ খাওয়ানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পশুর হাটে আমাদের মেডিকেল টিম থাকবে। জাল নোট শনাক্তকরণের ব্যবস্থাও করা হবে। এখন হাটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইজারাদাররা।

জৈন্তাবার্তা / সুলতানা



শীর্ষ সংবাদ:

সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার এ্যাডহক কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে যাচ্ছে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী
প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কার্ড করছে সরকার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
সিলেটে প্রায় ১৩ লাখ টাকার চো'রাচা'লানের পণ্য জ'ব্দ
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আরও শতাধিক
সেপ্টেম্বরে সিলেটের সড়কে ঝ'রেছে ২১ জনের প্রা'ণ
বিশ্বকাপের ভেন্যু দেখতে সিলেটে আইসিসির প্রতিনিধি দল
জৈন্তাপুরের বড়গাং নদীতে বালু উত্তোলনকালে ডু/বে শ্রমিকের মৃ/ত্যু
শাহপরান (রহ.) দরগাহ ওয়াকফ এস্টেটের তদন্তে লিখিত বক্তব্য ও নথিপত্র দাখিল
‘বিশ্বনাথ-ওসমানীনগরের কোনো রাস্তা কাঁচা থাকবে না’: এমপি লুনা