ছবি: নিজস্ব
ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে জমে ওঠেছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার জগন্নাথপুর বাজারে পশুর হাট। পুরো বাজার জুড়ে বসেছে এ হাটটি।
রবিবার (১ জুন) দুপুরের পর থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, হাটে ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। ক্রেতা–বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার ছোট মাঝারি গরুর দাম গড়ে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা বেশি।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এই হাটে কোরবানির পশুর সরবরাহ বেশি আছে। সে তুলনায় ক্রেতা কম। অপরদিকে ক্রেতাদের ভাষ্য, গত বছরের চেয়ে এবার গরুর দাম বেশি।
বরিশাল থেকে ১৭টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন আকরাম খাঁ। তিনি বলেন, গত বছরে ২৮টি গরু নিয়ে এই হাটে এসেছিলাম। বিক্রি হয়েছিল ২০টি আর বাকি ৮টি ফেরত নিয়ে যেতে হয়েছে। বিক্রি করে লাভের আশায় গতবার ৫ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এ বছর আবার লোকসান হলে ঋণ পরিশোধের জন্য জমি বিক্রি করতে হবে। গরুর হাটে ১৭টি ষাঁড় নিয়ে এসেছি। একেকটার দাম ১ লাখ ১০ থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা।
কাশিয়াপাড়া থেকে গরুর হাটে শখের বসে পালন করা ৩টি গরু নিয়ে এসেছেন আজিজুর রহমাম। তিনি বলেন, এবারই প্রথম হাটে এসেছি, এখনো তেমন বেচাকেনা চোখে পড়েনি। আশা করছি, আজকালের মধ্যে গরু ৩টি বিক্রি হবে ইনশাআল্লাহ ৩টি গরুর দাম চাচ্ছি তিন লক্ষ টাকা।
হবিগঞ্জ থেকে হাটে ছোট আকারের ৩৭টি গরু নিয়ে এসেছেন আবদুল মান্নান । এর মধ্যে একটি গরু বিক্রি করেছেন ৯৩ হাজার টাকা। এসব গরুর দাম লাখের নিচে বলে জানান তিনি।
ঘোষগাঁও ইউনিয়ন গরু ব্যবসায়ী মঈন উদ্দিন বলেন, আমি ১ লাখ ২০ হাজার থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দামের ২২টি গরু নিয়ে এসেছি। যার মধ্যে একটি দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করেছি।
হাটে গরু কিনতে আসা সৈয়দপুরের বাসিন্দা আরিফুল বলেন, মাঝারি আকারের একটি গরু কিনেছি ১ লাখ ৩১ হাজার টাকা দিয়ে। এখানেই বাড়ি তাই ঝামেলা এড়াতে আগেই কিনেছি।
জগন্নাথপুর বাজার হাটের ইজারাদার: মোঃ জুবায়ের আহমদ ভূইয়া বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। আমরাও আলাদা মনিটরিং সেল গঠন করেছি। কারো কোনো কিছুতে সমস্যা হলে মাইকে ঘোষণা করে সমাধান করা হচ্ছে।
জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার




