ছবি: নিজস্ব
জলযানের মধ্যে নৌকার সংখ্যাই সব চেয়ে বেশি। মানুষ খুব প্রাচীনকাল থেকেই নানা রকমের নৌকা ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু বর্তমানে কালের আবর্তে ও খাল বিল ভরাট হওয়ার কারনে হারিয়ে গেছে নৌকা শিল্প। নৌকা তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি,খাল-বিল ভরাট,রাস্তা নির্মান ও আর্থিক অনটনের ফলে এ শিল্পের কারিগররা এখন পেশা ছেড়ে দিচ্ছে। ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে নৌকা শিল্প। তাছাড়া আর্থিক দুরাবস্থা এবং নৌকা তৈরির উপকরণের মূল্য দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় কারিগররা তাদের প্রাচীন এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছে।
এক সময় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে গ্রাম গুলোতে প্রবেশ করলেই খাল ও বিলে এবং প্রত্যেক বাড়ি থেকে ঠকঠক শব্দ ভেসে আসতো। কাঠে হাতুড়ি দিয়ে পেরেক মেরে নৌকা তৈরির শব্দ শোনা যেত পুরো গ্রামজুড়ে। আজকাল সেই শব্দ আর কানে আসেনা। শত অভাব-অনটনের মধ্যেও জগন্নাথপুর উপজেলার কিছু কারিগর এ ঐতিহ্যবাহী পেশাটি এখনও আকঁড়ে ধরে আছে। বাকী কারিগররা এখন পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় নিজেদের নিয়োজিত করেছে।
একসময় জগন্নাথপুর উপজেলার জগন্নাথপুর বাজার, রানীগঞ্জ বাজার, রসুলগঞ্জ বাজার,গন্ধপুর বাজার,কেশবপুর বাজার, ভবের বাজার,সৈয়দপুর বাজার ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন বাজারে বর্ষা মৌসুমের সময় বাজারের কাছে নৌকাগুলো সারি হয়ে থাকতে দেখা যেত। তখন খাল বিলে মানুষেরা নৌকা করে বাজার গিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় করতো।
স্থানীয় নৌকার কারিগর অখিল সূত্রধর বলেন, ছোট আকারের একটা নৌকা তৈরি করতে ৫/৬ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। কিন্তু হাটে নিয়ে এলে সে নৌকা ৫-৬ হাজার টাকা বিক্রি করতেও হিমশিম খেতে হয়। আমাদের বর্তমান প্রজন্ম এ শিল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এখন আর কেউ এ পেশায় থাকছে না। আগামী দিনগুলোতে নৌকাশিল্প হারিয়ে যাবে।
জগন্নাথপুর উপজেলার সিনিয়র সাংবাদিক ও হাওর বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব অমিত দেব বলেন,এক সময় বিয়ে-শাদিতে এক গ্রামের বরযাত্রী অন্য গ্রামে নৌকা সাজিয়ে নিয়ে যেত বিয়ের জন্য। স্কুল-কলেজ, হাটবাজার, মাল আনা-নেওয়ার কাজে এসব নৌকা ব্যবহার করা হত। গত ৩০ বছর ধরে এ দৃশ্য আর দেখা যায় না। এখন প্রায় প্রতিটি গ্রামেই রাস্তা নির্মাণ হওয়ায় নৌকার ব্যবহার অনেকটা কমে গেছে।
জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার




