সরকারের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের কোনো সমঝোতার সুযোগ নেই
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:১৪ PM

সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

সরকারের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের কোনো সমঝোতার সুযোগ নেই

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১/০৪/২০২৬ ০৭:৪২:৩৩ PM

সরকারের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের কোনো সমঝোতার সুযোগ নেই

সংগৃহিত


সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করে বলেছেন-সরকারের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের কোনো সমঝোতার সুযোগ নেই। তিনি জানান, বিএনপির অর্থনৈতিক নীতিতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে আপস করে কাজ করার ধারণা নেই।

প্রশ্নটি তুলেছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি সংসদে দাবি করেন, এস আলম গ্রুপ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়ে খেলাপি হয়েছে, যার বড় অংশ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ও জনতা ব্যাংক থেকে নেওয়া।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনে যে সংশোধন আনা হয়েছে, তা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে ফেরানোর জন্য নয়। বরং তিনি এটিকে ‘নিউ উইন্ডো’ বা নতুন সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন, যার লক্ষ্য ব্যাংকিং খাতে অর্থ প্রবাহ বাড়ানো। বর্তমান ও নতুন—উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীর জন্য এই সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম অভিযোগ তোলেন, সংশোধিত আইনের মাধ্যমে কম অর্থ দিয়ে বড় ঋণখেলাপিরা আবার মালিকানায় ফিরতে পারে। তবে মন্ত্রী আবারও জোর দিয়ে বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটাই—ব্যাংকে অর্থ ফিরিয়ে আনা, কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া নয়।

পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, এস আলম গ্রুপ ও বেক্সিমকো গ্রুপ-এর বিরুদ্ধে দেশ-বিদেশে আইনি পদক্ষেপ চলছে। যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে সহায়তা চেয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন সংস্থার মাধ্যমে সম্পদ অনুসন্ধান চলছে।

সরকার ইতিমধ্যে এস আলম-সংশ্লিষ্ট শত শত ব্যাংক হিসাব ও হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করেছে বলেও জানান তিনি। তবে পুরো অর্থ উদ্ধার একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল প্রক্রিয়া এ কথাও স্বীকার করেন অর্থমন্ত্রী।

ব্যাংক খাত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ৪৪টি বেসরকারি ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে সংকটে থাকা পাঁচটি ব্যাংক—ফার্স্ট সিকিউরিটি, সোশ্যাল ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন ও এক্সিম ব্যাংক—একীভূত করে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আমানতকারীদের সুরক্ষায় একটি বিশেষ স্কিমের আওতায় প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, বৈদেশিক ঋণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারের মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৮ বিলিয়ন ডলার। তবে সরকার ধীরে ধীরে ব্যাংকনির্ভর ঋণ কমানোর নীতিতে এগোচ্ছে এবং আগামী বাজেটে তার প্রতিফলন দেখা যাবে।

সব মিলিয়ে, অর্থমন্ত্রী পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন- ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলবে, আর ব্যাংক খাতকে স্থিতিশীল করতে সরকার কাঠামোগত সংস্কারের পথেই হাঁটছে।

জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ:

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বালাগঞ্জে বন্যার শ'ঙ্কা
কোম্পানীগঞ্জ সী'মান্তে বৃদ্ধের ম'রদেহ উ'দ্ধার
নবীগঞ্জে রাস্তা বন্ধ করে ৬ পরিবারকে অ*বরুদ্ধ করে রাখার অ*ভিযোগ
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের শক্তিশালী করলেই বাড়বে অর্থনৈতিক প্রবাহ’- মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির
‘স্বচ্ছতার বিষয়ে তিনি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন’- মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
‘মানসম্মত শিক্ষা ছাড়া প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকা সম্ভব নয়’- সিসিক প্রশাসক
গোয়াইনঘাট প্রত্যাশা কিন্ডারগার্টেনে ওয়ার্ল্ড ভিশনের ওয়াশ বিষয়ক সচেতনতা সভা
হবিগঞ্জে ঝুঁ'কিপূর্ণ ভবনের তালিকা চাইলেন আদালত
সিলেটে সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়ের আ'শঙ্কা