হবিগঞ্জে সরকারি রাস্তা পুনরুদ্ধারের নির্দেশ
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৪ অপরাহ্ন

হবিগঞ্জে সরকারি রাস্তা পুনরুদ্ধারের নির্দেশ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৯/১২/২০২৪ ০২:৪৭:৪৭ পূর্বাহ্ন

হবিগঞ্জে সরকারি রাস্তা পুনরুদ্ধারের নির্দেশ

ফাইল ছবি


সাবেক সংসদ সদস্য আবু জাহিরের নির্দেশে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লুকড়া গ্রামে সমাজচ্যুত ৩০টি পরিবারের চলাচলের জন্য সরকারি রাস্তা পুনরুদ্ধারে উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। 

জানা গেছে, লুকড়া গ্রামের ৩০টি পরিবারকে গত প্রায় ৩ বছর আগে সাবেক সংসদ সদস্য আবু জাহিরের নির্দেশে সমাজচ্যুত করা হয়েছিল। 

পরবর্তীতে জেলা শহরে চলাচলের উপযোগী একমাত্র সরকারি রাস্তাটিও কেটে নিয়েছিল দুষ্কৃতিকারীরা। সবই করা হয়েছিল নিরীহ পরিবারগুলোকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে। এ বিষয়ে সম্প্রতি দৈনিক জৈন্তাবার্তা পত্রিকায় “হবিগঞ্জে ৩০টি পরিবার ৩ বছর ধরে সমাজচ্যুত” শিরোনামে একটি সংবাদও প্রকাশ হয়েছিল।

এরপর জেলা প্রশাসন রাস্তা পুনরুদ্ধারের এ নির্দেশ প্রদান করেন। জুডিসিয়াল মুন্সীখানা শাখার সহকারী কমিশনার রনজিৎ চন্দ্র দাস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশ প্রদান করা হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বর্ণিত রাস্তা সার্ভেয়ার দ্বারা পরিমাপ করে সরকারি রাস্তা চিহ্নিতক্রমে বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মো. ফরিদুর রহমানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

জানা যায়, গ্রামের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাবেক সংসদ আবু জাহিরের নির্দেশে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লুকড়া গ্রামের ৩০টি পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়েছিল। বর্তমানে আবু জাহির আত্মগোপনে থাকলেও তার দেওয়া নির্দেশে গত প্রায় ৩ বছর ধরে সমাজচ্যুত আছে ওই গ্রামের ৩০টি পরিবার। সমাজচ্যুত ৩০টি পরিবারের লোকজনের সাথে অন্য কেউ কথা বললে করা হয় ২০ হাজার টাকা জরিমানা। হাওরে কৃষিজমি চাষাবাদে দেওয়া হয় না পানি। বাজার বা দোকানে তাদের কাছে বিক্রয় করা হয় না পণ্য। ফলে দীর্ঘদিন ধরে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। 

এছাড়া ওই ৩০টি পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে জেলা শহরে যাওয়ার একমাত্র চলাচলের এলজিইডির তালিকাভুক্ত রাস্তাটির ইট সলিং তুলে নিয়ে মাটিও কেটে নেওয়া হয়েছে। সবই করা হয়েছে তাদেরকে কষ্ট দেওয়ার জন্য।

অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের বাড়িঘর ভেঙে নিরীহ ৩০ পরিবারের মালিকানাধীন জমির উপর দিয়ে নিজেদের আধিপত্য দেখানোর জন্য নতুন করে আরেকটি রাস্তা নির্মাণ করেছেন গ্রামের কথিত মোড়লরা। ঘটনার পর থেকেই ভুক্তভোগীরা একাধিকবার প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েছেন। কিন্তু সাবেক এমপি আবু জাহিরের নির্দেশে সমাজচ্যুত করার কারণে ব্যবস্থা নিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয় এবং জাতীয় সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

এরপরও কর্তৃপক্ষ কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী মো. জালাল উদ্দিন আবারও গত ২২ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জের বর্তমান জেলা প্রশাসক ড. মো. ফরিদুর রহমানের কছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে কোর্ট স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মফিজুল উদ্দিন খানকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিতের জন্য তদন্তের নির্দেশ প্রদান করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ১৫ নভেম্বর অভিযোগের প্রায় শতভাগ সত্যতা পেয়েছেন বলে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন ইন্সপেক্টর মফিজুল।

জৈন্তা বার্তা/আরআর