ছবি সংগৃহীত
হামজা চৌধুরীকে বরণের অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে চলেছে। আজ সোমবার সপরিবারে দেশের মাটিতে পা রাখলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ তারকা। অতীতে বহুবার দেশে এসেছেন শেফিল্ড ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার হামজা। তবে সেই সফরগুলো ছিল একান্তই ব্যক্তিগত। এবার তিনি এসেছেন দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে। আগামী ২৫ মার্চ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ভারতের বিপক্ষে দেখা যাবে তাকে লাল-সবুজ জার্সিতে। এ কারণেই এবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মতো হামজাকে বরণের অপেক্ষা হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার স্নানঘাটবাসী। তার আগমনে সর্বত্র উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
এ উপলক্ষে ইংল্যান্ড থেকে সপ্তাহ তিনেক আগেই বাংলাদেশে চলে এসেছেন হামজা চৌধুরীর পিতা মোর্শেদ দেওয়ান চৌধুরী। এরপর থেকেই তাকে ব্যস্ততায় সময় কাটাতে হচ্ছে। তার আগমনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছেন তিনি। এজন্য তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনসহ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
রোববার সরেজমিনে বাহুবল উপজেলার স্নানঘাট গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, হামজা চৌধুরীকে বরণ করতে সর্বত্র উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তাকে স্বাগত জানিয়ে বানানো হয়েছে তোরণ। গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে ফেস্টুন ও ব্যানার। বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনরা নানা প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাড়া-প্রতিবেশী, সাংবাদিক ও স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন আসছেন, খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।
সেখানে কথা হয় স্নানঘাট গ্রামের বাসিন্দা, বাহুবল কলেজের পরিচালনা কমিটির সদস্য আজিজ সিদ্দিকীর সাথে। তিনি বলেন, হামজা চৌধুরীকে ছোটবেলায় দেখেছি। তখন তার বিশ্বজোড়া খ্যাতি ছিল না। এখন তিনি খ্যাতিমান ফুটবলার। তার ওপর নিজ দেশের হয়ে জাতীয় দলে অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন। এটা যেমন দেশের ফুটবলের মান বাড়াবে, তেমনি আমাদের স্নানঘাট তথা বাহুবলবাসীরও সম্মান বাড়াবে।
হামজা চৌধুরীর ফুপু দেওয়ান রুবিনা বলেন, হামজা চৌধুরীকে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলতে দেখেছি। এবার তাকে কাছে থেকে দেখবো। এজন্য আমিসহ এলাকার লোকজন উদগ্রীব।
হামজা চৌধুরীর পিতা মোর্শেদ চৌধুরী জানান, রোববার ইংল্যান্ড সময় দুপুরে শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে ম্যাচ খেলে রাতেই বাংলাদেশের বিমান ধরেছেন হামজা চৌধুরী। আজ সোমবার সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর সড়কপথে হামজা হবিগঞ্জে আসবেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন স্ত্রী, তিন সস্তান, মা, দুই ভাইসহ ৯ জন।
স্নানঘাট ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতা ইমাম শরীফ হোসেন চৌধুরী জুয়েল বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে আমরা হামজা চৌধুরীকে বরণ করার প্রস্তুতি নিয়েছি।
বাহুবল মডেল থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, হামজা চৌধুরীর গ্রামের বাড়িতে আগমনকে আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। যাতে তার নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি না থাকে সেভাবে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তার নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়োজিত থাকবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।
জানা গেছে, নিজের গ্রামের বাড়িতে একদিন কাটানোর পরের দিনের শেষ ফ্লাইট ধরে হামজা ঢাকায় গিয়ে যোগ দেবেন দলের সঙ্গে। ১৯ মার্চ দুপুরে টিম হোটেলে অফিশিয়াল প্রেস কনফারেন্সে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন তিনি। তার আগে সকালে হবে দলীয় ফটোসেশন। এরপর বিকেলে অথবা সন্ধ্যায় অনুশীলনে নামার কথাও রয়েছে হামজার।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




