ছবি:সংগৃহীত
আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে দ্বিতীয়বারের মতো প্রার্থী পরিবর্তন করল জামায়াতে ইসলামী। এ সিদ্ধান্তে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী, প্রবাসী সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান। নতুন করে জোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক ডঃ আহমদ আব্দুল কাদেরকে।
এর আগে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন দলের হবিগঞ্জ জেলা আমীর মাওলানা মুখলিছুর রহমান। প্রথম দফায় তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলায় আগেভাগেই ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেন এবং স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসেন। তবে হঠাৎ করে দলীয় সিদ্ধান্তে তাকে সরিয়ে প্রবাসী সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
মনোনয়ন পাওয়ার পর অলিউল্লাহ নোমান স্বল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচনী এলাকায় সক্রিয় প্রচারণা চালান। জামায়াতের নেতাকর্মীরাও তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামেন। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে গণসংযোগ, মতবিনিময় ও প্রচারণায় তিনি উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলেন বলে দাবি করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এমন অবস্থায় সোমবার হঠাৎ করে জামায়াতসহ আট দলীয় জোট খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আব্দুল কাদের বাচ্চুকে জোটের প্রার্থী ঘোষণা করলে দলীয় কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অলিউল্লাহ নোমান বাদ পড়ায় জামায়াতের বহু নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। জামায়াত নেতা ওবায়দুল্লাহ তার ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে লেখেন, ‘নোমান ভাই, ব্যথিত ও ভারাক্রান্ত মনে আপনাকে সমবেদনা জানাচ্ছি। একটা জৌলুশময় ও নিরাপদ জীবনের হাতছানিকে পেছনে ফেলে দেশমাতৃকার সেবার ইচ্ছাকে সামনে এনেছিলেন। মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও মানবসেবার এই মনোবাসনা যদি অটুট থাকে, মহান আল্লাহ নিশ্চয়ই এর প্রতিদান দেবেন। ধৈর্যই মহত্ত্ব, ধৈর্যই শক্তি।’
একই পোস্টে তিনি নতুন প্রার্থীকে ইঙ্গিত করে কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘কোনো ধরনের জনসম্পৃক্ততা ছাড়া, শুধু কেন্দ্রীয় নেতার দোহাই দিয়ে জোটভাঙার ইস্যুকে পুঁজি করে নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাঁধে বোঝা হয়ে চেপে বসার এই সুবিধাভোগী ও অরাজনৈতিক দৌরাত্ম্যকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলাম।’
এদিকে হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের যুগ্ম সেক্রেটারি ও শানখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামও ফেসবুকে লিখেছেন, ‘মজলুম সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান ভাই আরাম-আয়েশের জীবন ছেড়ে দেশের জন্য নির্বাচনে এসেছিলেন। অল্প সময়েই নিরলস পরিশ্রমে মানুষের মন জয় করেছিলেন। আজ সংগঠন ও জোটের স্বার্থে তার এই যাত্রা এখানেই থামছে। ভাই ভালো থাকবেন, অতীতের মতোই সাহসী সাংবাদিকতায় ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে ভূমিকা রাখবেন।’
উল্লেখ্য, অধ্যাপক ডঃ আহমদ আব্দুল কাদের এর আগেও দু’বার বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এই আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমানের প্রতিক্রিয়া জানতে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও মোবাইল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায় নি।
নোমানের স্থলাভিষিক্ত অধ্যাপক ডঃ আহমেদ আব্দুল কাদের জানান, 'মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা ছিল।আমার আশা পূর্ণ হয়েছে।নির্বাচিত হলে জনপ্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে যাব।'
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




