ছবি:সংগৃহীত
বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আজ ঢাকায় স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি)-এর উদ্যোগে এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৭টি ব্যবসায়িক সংগঠনের সহযোগিতায় রাজধানীর একটি অভিজাত মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, পেশাজীবী প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট অতিথিরা অংশ নেন। এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হামীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে আজাদ, সায়হাম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদসহ বিভিন্ন খাতের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। তারা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে তাঁর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর আলোচনায় বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক সাহসী ও আপসহীন নেত্রী। তাঁর নেতৃত্বে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বক্তারা আরও বলেন, তাঁর সরকারের সময়ে বেসরকারি খাতের বিকাশ, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল।
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়-এই বিশ্বাস বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতির অন্যতম ভিত্তি ছিল। তিনি সবসময় ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কার্যকর নীতিগত সহায়তা প্রদান করেছেন। তাঁর সময়ে শিল্প খাতে যে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।
আলোচনা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ায় তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে দেশ একজন অভিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ক ও দৃঢ়চেতা নেত্রীকে হারিয়েছে। তাঁর নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে সারা দেশে রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের উদ্যোগে ধারাবাহিকভাবে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজ ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই স্মরণসভা সেই ধারাবাহিক কর্মসূচিরই অংশ।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




