হবিগঞ্জে জমির বিরোধ নিয়ে ভাইকে হত্যার দায়ে সেবু মিয়া (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তারকৃত সেবু মিয়া হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানাধীন নিশাকুড়ি গ্রামের মৃত হানিফ উল্যাহর ছেলে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাতে র্যাব গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেবুকে কুমিল্লার কোতোয়ালি থানাধীন চৌয়ারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) নবীগঞ্জ থানার পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে র্যাব।
র্যাব জানায়, নিহত আজমল হোসাইন হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানাধীন নিশাকুড়ি এলাকার বাসিন্দা। প্রবাসে থাকাকালীন ভিকটিমের ক্রয়কৃত জমিসহ পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমিগুলো তাকে না জানিয়ে ভাইয়েরা অন্যত্র বন্ধক দিয়ে নিজেদের মধ্যে টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন। বিষয়টি ভিকটিম দেশে আসার পর জানতে পেরে নিজের টাকা থেকে তা পরিশোধ করে বন্ধকী জমিগুলো ছাড়িয়ে নিজেই চাষাবাদ শুরু করেন।
এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে গত বছরের ২৫ জুন তার দুই ভাই ও ভাতিজা মিলে ভিকটিমকে মারধর করলে ভিকটিম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের করার পর থেকে আসামিরা মামলা প্রত্যাহার করার জন্য ভিকটিমকে প্রাণে হত্যার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিলেন।
এরই প্রেক্ষিতে গত বছরের ৭ নভেম্বর ভিকটিম আজমল হোসাইন জুম্মার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হয়ে মসজিদের গেটের সামনের রাস্তায় পৌঁছামাত্র ওৎ পেতে থাকা কয়েকজন ধারালো ছোরা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। পরবর্তীতে ভিকটিমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ নভেম্বর সন্ধ্যায় ভিকটিম মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী নবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে অভিযান চালায়।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




