হবিগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক (বহিস্কৃত) এনামুল হক সাকিবসহ ৩ জনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।
মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে শহরের চৌধুরী বাজার খোয়াই মুখ এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।'
এনামুল হক সাকিব শহরতলীর উমেদনগর গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে। আটককৃত অন্যরা হলেন- উমেদনগর গ্রামের পুরান হাটির শাহ আলমের ছেলে মো. শিহাব আহমেদ ও নসরতপুরের আব্দুল কাইয়ূমের ছেলে মো. মোশারফ।
জানা যায়, প্রায় ১৫ দিন পূর্বে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে চৌধুরী বাজারের খোয়াই মুখ এলাকার ব্যবসায়ী ও শেখ জামাল অটোমেটিক ফ্লাওয়ার মিলসের স্বত্ত্বাধিকারী শেখ জামাল মিয়াকে সন্ত্রাসীদের হুমকি-ধামকি দিয়ে ৪৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন সাকিব। এর কিছু দিন যেতে না যেতেই তিনি আবারও ওই ব্যবসায়ীর কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।
মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে সাকিবের নেতৃত্বে শিহাব ও মোশারফসহ কয়েকজন শেখ জামাল মিয়ার দোকানে গিয়ে তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সময় টাকা না দিলে আওয়ামী লীগের দোসর পরিচয়ে ওই ব্যবসায়ীকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তারা।
বিষয়টি তাৎক্ষণিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা সেখানে গিয়ে তাদেরকে আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি দল তাদের আটক করে নিয়ে যান। পরে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় তাদের হস্তান্তর করে সেনাবাহিনী।
এনামুল সাকিবের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় মব সন্ত্রাসের হুমকি দিয়ে ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে সেনাবাহিনী ৩ জনকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




