হবিগঞ্জে পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা জমে উঠেছে। বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া মেলা চলবে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। মেলায় বোয়াল, বাঘাইড়, আইড়, চিতল, গজার, রুই, কাতলাসহ দেশীয় নানা প্রজাতির বড় আকৃতির মাছ উঠেছে।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল গ্রামে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলায় একটি বাঘাইর মাছের দাম হাঁকা হয়েছে আড়াই লাখ টাকা। বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত মেলায় ওঠা সবচেয়ে বড় মাছ এটি। মাছটি দেখতে ভিড় করছেন মেলায় আসা ক্রেতাসহ দর্শনার্থীরা।
মেলায় মাছটি নিয়ে এসেছেন জেলার বাহুবল উপজেলার বেড়াখাল গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ। তিনি জানান, বাঘাইড়টি শেরপুরের কুশিয়ারা নদী থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। মাছটির ওজন প্রায় ১২০ কেজি; যার দাম চাওয়া হচ্ছে আড়াই লাখ টাকা। যদিও তিনি ক্রেতার সঙ্গে দামদর হলে কিছুটা কমে মাছটি বিক্রি করবেন।
মেলা আয়োজকদের ভাষ্য, প্রতি বছর পৌষসংক্রান্তিতে এই মাছমেলার আয়োজন করা হয়। এ মেলাটি পইলসহ আশপাশের গ্রামগুলোর মধ্যে যোগ করে অন্য রকম আনন্দ; যা দুই শতাধিক বছর ধরে চলে আসছে। প্রতি বছরই এ দিনটা এলে উৎসবে মেতে ওঠেন পইল ও আশপাশের গ্রামগুলোর সাধারণ মানুষ। এ মেলায় দেশীয় প্রজাতির বড় বড় মাছ দেখতে ও কিনতে সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ অন্যান্য জেলা থেকেও প্রচুর লোকজন এসে ভিড় জমান।
মাছ ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান জানান, তিনি আজমিরীগঞ্জের কুশিয়ারা নদী থেকে প্রায় ২২ কেজি ওজনের একটি বোয়াল মাছ নিয়ে এসেছেন; যার দাম চাওয়া হচ্ছে ৬০ হাজার টাকা। আজমিরীগঞ্জের কুশিয়ারা নদী থেকে ২৫ কেজি ওজনের একটি ঘাঘট মাছ নিয়ে মেলায় এসেছেন শাহ আলম; মাছটি ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করবেন তিনি।
মেলায় আসা ক্রেতারা জানান, বিকেলবেলা মাছের দাম অনেকটা বেশি চাইছেন বিক্রেতারা। রাতের বেলায় দাম কমতে পারে।
মিনহাজ মিয়া নামে এক ক্রেতা জানান, বাজার থেকে মেলায় মাছের দাম বেশি। তবে মাছগুলো বড় আকৃতির ও আকর্ষণীয় হওয়ায় দাম কিছুটা বেশি হলেও আনন্দের সঙ্গে কিনে নিয়ে যাই।
মেলা আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মিয়া জানান, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বাগ্মী নেতা বিপিন চন্দ্র পালের জন্মভূমি পইল গ্রামে প্রতি বছর এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এই মেলাকে ঘিরে প্রতি বছর এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




