সংগৃহিত
হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর–চুনারুঘাট উপজেলার ২৩টি চা বাগানের হাজারো শ্রমিকের কাছে আজ আশার নাম হয়ে উঠেছেন বিএনপি নেতা ও শিল্পপতি সৈয়দ শাফকাত আহমেদ। চা শ্রমিকদের আর্থসামাজিক মুক্তির স্বপ্ন বুকে ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন। মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের কৃতি সন্তান এবং সায়হাম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাফকাত আহমেদ চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।চা শ্রমিকরা মূলত সহজ–সরল ও পরিশ্রমী মানুষ। যুগের পর যুগ তারা কঠোর পরিশ্রম করে গেলেও তাদের জীবনমানের তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। সরকার আসে, সরকার যায়; কিন্তু শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, পুষ্টি ও বাসস্থানের মতো মৌলিক চাহিদাগুলো আজও অবহেলিত। এ অবস্থায় তাদের পাশে দাঁড়িয়ে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন সৈয়দ শাফকাত আহমেদ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চা বাগানগুলোতে ধানের শীষের ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। একই সঙ্গে তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে চা শ্রমিকদের কর্মমুখী শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন। চা শ্রমিকদের সন্তানদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে তাদের দারিদ্র্যচক্র ভাঙার চেষ্টা করছেন তিনি।তেলিয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক নেতা হেমন্ত পান বলেন, “চা বাগানের মানুষ এখনো উন্নয়নের মূল স্রোতে আসতে পারেনি। বাগানের বাইরে কাজ করার সুযোগ ছিল খুবই কম। কিন্তু নোয়াপাড়ার কৃতি সন্তান সৈয়দ শাফকাত আহমেদ আমাদের ছেলেমেয়েদের অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ দিচ্ছেন। এখন অনেক শ্রমিক পরিবার স্বচ্ছল জীবন যাপন করছে।”
আমু চা বাগানের নারী নেত্রী বিমলা সাঁওতাল বলেন, “বিএনপি নেতা সৈয়দ শাফকাত আহমেদ আমাদের মৌলিক সমস্যাগুলো হৃদয় দিয়ে বোঝেন। আমাদের সুখ–দুঃখে পাশে দাঁড়ান। নিজের উদ্যোগে অনেক বেকার শ্রমিককে চাকরি দিয়েছেন। আমরা সারাদিন কাজ করে বাগানেই খাবার খাই। তিনি আমাদের সঙ্গে মাটিতে বসে খাবার খান, কষ্ট ভাগ করে নেন।”নোয়াপাড়া চা বাগানের সাবেক ইউপি সদস্য শ্যামল ব্যানার্জি বলেন, “আগে আমাদের ছেলে-মেয়েরা কোথাও কাজ পেত না। এখন সকাল থেকে শত শত শ্রমিক দল বেঁধে শিল্প কারখানায় গিয়ে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। তারা এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে। এই পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান সৈয়দ শাফকাত আহমেদের।”
নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, “আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন সমান মর্যাদা দিয়ে। মানুষকে ভালোবাসা ও তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। ছোটবেলা থেকেই চা শ্রমিকদের কষ্ট দেখেছি। তারা খুব পরিশ্রমী ও সৎ। একটু সুযোগ পেলে তারাই দেশের বড় সম্পদ হতে পারে। তাই আমি চেষ্টা করছি তাদের শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে।”তিনি আরও বলেন, “চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন শুধু রাজনীতি নয়, এটি মানবিক দায়িত্ব। তাদের সন্তানদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলে পুরো সমাজ বদলে যাবে।”
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




