নিজস্ব
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে ভোটারদের মধ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এবার নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে স্থানীয় বনাম বহিরাগত প্রার্থী ইস্যু। প্রচারণার মাঠে দলীয় প্রতীক, রাজনৈতিক আদর্শ ও উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি প্রার্থীর স্থানীয় পরিচয় ও জনসম্পৃক্ততা বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।
এ আসনের ভোটাররা বলছেন, দীর্ঘদিন যারা মাধবপুর–চুনারুঘাটের মানুষের সুখ–দুঃখে পাশে ছিলেন, সামাজিক কাজে যুক্ত ছিলেন এবং স্থানীয় সমস্যা বুঝে সমাধানে ভূমিকা রেখেছেন—তাদের প্রতিই আস্থা বেশি। অন্যদিকে, যেসব প্রার্থী হঠাৎ করে বাইরে থেকে এসে মনোনয়ন পেয়েছেন এবং যাদের সঙ্গে এলাকার মানুষের সরাসরি সম্পর্ক নেই, তাদের প্রতি অনীহা দেখা যাচ্ছে।
অনেক ভোটারের মতে, বহিরাগত প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হলে নির্বাচনের পর তাকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তখন সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান বিলম্বিত হয় এবং ভোগান্তি বাড়ে। এ কারণে তারা এমন প্রতিনিধি চান, যিনি এলাকায় থাকবেন, সহজে পাওয়া যাবে এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হবিগঞ্জ–৪ আসনে এবার জয়–পরাজয় নির্ভর করছে মূলত চা শ্রমিক, সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটার এবং সাধারণ আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোটের ওপর। এই তিনটি ভোটার গোষ্ঠী মিলিয়ে একটি বড় ভোটব্যাংক তৈরি হয়েছে, যা ফলাফল পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
ধর্মঘর ইউনিয়নের শিক্ষক আবিদ হোসেন বলেন, “আমরা এমন এমপি চাই, যিনি শুধু নির্বাচনের সময় আসবেন না; বরং সারাবছর আমাদের পাশে থাকবেন। স্থানীয় সমস্যাগুলো বুঝবেন এবং সমাধানে উদ্যোগ নেবেন।”
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক চুনারুঘাটের চা শ্রমিক সন্তান নৃপেন পাল বলেন, “মাধবপুর–চুনারুঘাট এলাকায় লক্ষাধিক চা শ্রমিক ও সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ বসবাস করেন। তারা এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—যিনি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে তাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন, তাকেই ভোট দেবেন।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান আলোচনায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সল এগিয়ে আছেন। কারণ তিনি নির্বাচিত হলে সব সম্প্রদায়ের মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে মিলেমিশে থাকতে পারবেন বলে সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করেন। তিনি মানবিক নীতিতে অটল এবং অন্যায়, অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন।”
নৃপেন পাল আরও উল্লেখ করেন, “মাধবপুর–চুনারুঘাট এলাকার হাজার হাজার নারী–পুরুষ রাতদিন শিল্প কারখানা ও চা বাগানে কাজ করে বাড়ি ফেরেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একজন সাহসী ও দায়িত্বশীল প্রতিনিধি প্রয়োজন। তাই অনেকেই মনে করছেন—সৈয়দ ফয়সল সেই যোগ্যতা রাখেন।”
চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ লিয়াকত হাসান বলেন, “সৈয়দ মো. ফয়সল দীর্ঘদিন ধরে মাধবপুর–চুনারুঘাটের মানুষের সঙ্গে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যুক্ত আছেন। ঈদ, পূজা ও বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।”তিনি আরও বলেন, “তিনি কখনো কারও সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেননি। চা শ্রমিক, সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সহাবস্থান বজায় রেখেছেন। তাই স্থানীয় মানুষ তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে আগ্রহী।”
শাহজাহানপুর ইউপি চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন চৌধুরী বলেন, বাইরের জেলা থেকে আসা প্রার্থীদের সঙ্গে এলাকার মানুষের গভীর সম্পর্ক নেই। ফলে তারা স্থানীয় উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষায় কতটা কার্যকর হবেন—সে বিষয়ে সন্দেহ রয়ে গেছে।তাই ভোটারদের পছন্দ সৈয়দ মোঃ ফয়সল।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




