জমজমাট জাউয়া বাজারের কোরবানির হাট
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০১:৫৩ AM

জমজমাট জাউয়া বাজারের কোরবানির হাট

মোশাররফ হোসেন, ছাতক প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩/০৫/২০২৬ ০৪:২২:২৫ PM

জমজমাট জাউয়া বাজারের কোরবানির হাট

সংগৃহীত


সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার সবচেয়ে বড় কোরবানির পশুর হাট জাউয়া বাজার এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতা ও পাইকাররা ভিড় জমাচ্ছেন এ হাটে।

সপ্তাহের প্রতি শনিবার বসা এ হাটে ঈদকে কেন্দ্র করে বেড়েছে বেচাকেনার চাপ। নিজের পছন্দ ও সাধ্যের মধ্যে কোরবানির পশু কিনতে পারছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে খামারিরাও সময়মতো পশু বাজারজাত করতে পেরে লাভের আশা দেখছেন।

গ্রামীণ পরিবেশে ও প্রাকৃতিক খাবারে লালন-পালন করা গরু-ছাগলে ভরে উঠেছে পুরো হাট। স্থানীয় প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এবারের হাটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ বিশাল আকৃতির গরু ‘রাজা বাবু’। গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে ১৮ লাখ টাকা। তবে মালিক জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে কিছুটা কমবেশি হতে পারে। বিশাল দেহের ‘রাজা বাবু’কে এক নজর দেখতে হাটে ভিড় করছেন শত শত মানুষ।

এছাড়া ‘লায়ন’ নামের আরেকটি গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। ‘সাব্বির পাগলা’ নামের একটি গরু ইতোমধ্যে বিক্রি হয়েছে দুই লাখ টাকায়। হাটে আরও এসেছে ‘বাহাদুর’, ‘কালা চান’সহ কয়েকটি বড় আকৃতির গরু।

খামারিরা জানান, বিদেশ থেকে গরু-মহিষ আমদানি বন্ধ থাকলে দেশীয় খামারিরা লাভবান হবেন। এতে গ্রামীণ পশুপালকরাও ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং ক্রেতারাও তুলনামূলক কম দামে পশু কিনতে পারবেন।

জাউয়া বাজার পশুর হাটের ইজারাদার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এবার গরুর বেচাকেনা খুব ভালো হচ্ছে। গরুর হাসিল নির্ধারণ করা হয়েছে লাখে ৫ হাজার টাকা।”

ছাতক উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিলন মিয়া জানান, “ছাতকে স্থায়ী পশুর হাট রয়েছে দুটি—জাউয়াবাজার ও গোবিন্দগঞ্জ। কোরবানিকে সামনে রেখে হাটগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। এছাড়া প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তিনটি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম হাটে দায়িত্ব পালন করছে। এবার উপজেলায় ৭ হাজারের বেশি পশু কোরবানি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা