ছবি নিজস্ব
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং ভায়া শিবপাশা সড়কটি দীর্ঘ দুই বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। খানাখন্দে ভরা সড়কটিতে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছালেও তা নিরসনে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিরাট ভাটীপাড়া এলাকা থেকে শিবপাশা ইউনিয়নের শিবপাশা সবুজগঞ্জ বাজার পর্যন্ত প্রায় ১০ দশমিক ১৫০ কিলোমিটার সড়ক এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কজুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত, কোথাও পিচ উঠে গেছে, আবার কোথাও সেতুর সংযোগস্থলের মাটি সরে গিয়ে তৈরি হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। এর মধ্যেই প্রতিদিন চলছে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যান।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের কারণে যানবাহনগুলোকে গর্ত এড়িয়ে কিংবা ধীরগতিতে চলাচল করতে হচ্ছে। সড়কের দুই পাশ ও সেতুর গোড়ার মাটি সরে যাওয়ায় তা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচল করছে সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, পণ্যবাহী যানসহ বিভিন্ন যানবাহন। এতে যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি যানবাহনের যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শিবপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দারা বলেন, এই সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন উপজেলা সদরে যেতে হয়। কিন্তু সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। রোগী নিয়ে উপজেলা সদর হাসপাতালে যেতে খুবই কষ্ট হয়। সময় বেশি লাগায় রোগীরা আরও গুরুতর হয়ে পড়ে।
কবির মিয়া নামে আরেকজন জানান, দুই বছর ধরে সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ। দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহালেও এখনো স্থায়ী সংস্কার হচ্ছে না।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক রায়হান মিয়া বলেন, সড়কের গর্তের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। গত দুই দিনে কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনায় চালকসহ ১০ জন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশও দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দিনের আয়ের বড় একটি অংশ গাড়ি মেরামতেই চলে যায়।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ১০ দশমিক ১৫০ কিলোমিটার সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্তকরণের জন্য প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি এস্টিমেট তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পের অনুমোদন এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে এলজিইডি।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ওয়াইডেনিং প্রজেক্ট থেকে আমরা পিডি অফিসে এস্টিমেট পাঠিয়েছি। আশা করি এই মাসের মাঝামাঝি সময় অনুমোদন হয়ে যাবে। অনুমোদন পেলে দ্রুত রাস্তার সংস্কারকাজ শুরু হবে।
জৈন্তাবার্তা/আরআর




