সিলেট জেলায় ৬৩৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৪ PM

নগরীতে ১৬২, জেলায় ৪৭৪ মণ্ডপে হবে শারদীয় দুর্গোৎসব

সিলেট জেলায় ৬৩৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫/১০/২০২৬ ০৬:২২:১০ PM

সিলেট জেলায় ৬৩৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন

ছবি:সংগৃহীত


 শিউলি ফুলের সুবাস আর সাদা কাশফুলের দোলায় প্রকৃতিতে এসেছে শরতের আবহ। আকাশে সাদা মেঘের ভেলা জানান দিচ্ছে দেবীপক্ষের আগমনী বার্তা। এরই মধ্যে সিলেটের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমায় রং-তুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত শিল্পীরা। মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা, ডেকোরেশনসহ আনুষঙ্গিক কাজও চলছে পুরোদমে।

এবার সিলেট জেলা ও মহানগর মিলিয়ে মোট ৬৩৬টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সিলেট মহানগরে ১৬২টি এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৪৭৪টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে।

আগামী ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার মহাপঞ্চমীর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাক, ঢোল, শঙ্খ ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে নগর ও জনপদ।

পূজাকে ঘিরে ইতিমধ্যে অধিকাংশ প্রতিমার নির্মাণ ও রঙের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। প্রতিমাশিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতিমায় শেষ মুহূর্তের নান্দনিকতা ফুটিয়ে তুলতে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোকে আকর্ষণীয় করে তুলতে চলছে নানা ধরনের সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতি।

পূজার বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে রয়েছে পুষ্পাঞ্জলি, চণ্ডীপাঠ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আরতি, ভজন-কীর্তন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও আলোকসজ্জা। পূজা কমিটি ও পারিবারিক আয়োজকেরা এসব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

দুর্গাপূজাকে ঘিরে সিলেট নগরের বিপণিবিতানগুলোতেও বেড়েছে মানুষের ভিড়। নতুন পোশাক ও পূজার সামগ্রী কিনতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ।

৬৩৬ মণ্ডপে পূজা

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা ও মহানগর শাখা সূত্রে জানা গেছে, এবার সিলেট মহানগরে সার্বজনীন ১৪৬টি এবং পারিবারিক ১৬টি মিলিয়ে মোট ১৬২টি মণ্ডপে পূজা হবে।

সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সার্বজনীন ৪৪৮টি এবং পারিবারিক ২৬টি মিলিয়ে মোট ৪৭৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। জেলা ও মহানগর মিলিয়ে মোট মণ্ডপের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩৬টি।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে গোলাপগঞ্জে সার্বজনীন ৫৮টি ও পারিবারিক ৫টি, বালাগঞ্জে সার্বজনীন ৩০টি ও পারিবারিক ৩টি, কানাইঘাটে সার্বজনীন ৩৫টি, জৈন্তাপুরে ২০টি, ফেঞ্চুগঞ্জে সার্বজনীন ৪০টি ও পারিবারিক ১টি, বিশ্বনাথে সার্বজনীন ২৩টি ও পারিবারিক ৩টি, গোয়াইনঘাটে ৪০টি, জকিগঞ্জে সার্বজনীন ৯৩টি ও পারিবারিক ২টি, বিয়ানীবাজারে সার্বজনীন ৪২টি ও পারিবারিক ১২টি, কোম্পানীগঞ্জে ২৮টি এবং ওসমানীনগরে ৩৯টি সার্বজনীন পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

সিলেট মহানগরের কোতোয়ালী মডেল থানা এলাকায় সার্বজনীন ৩১টি ও পারিবারিক ১১টি, জালালাবাদ থানা এলাকায় সার্বজনীন ১৯টি ও পারিবারিক ২টি, এয়ারপোর্ট থানা এলাকায় সার্বজনীন ৩৯টি ও পারিবারিক ১টি, শাহপরাণ (র.) থানা এলাকায় সার্বজনীন ২৫টি ও পারিবারিক ১টি, দক্ষিণ সুরমায় সার্বজনীন ১৫টি এবং মোগলাবাজারে সার্বজনীন ১৭টি ও পারিবারিক ১টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

১৮ নির্দেশনা, ১১ সদস্যের মনিটরিং সেল

পূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার বার্ষিক প্রতিনিধি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৮টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে ১১ সদস্যের একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।

পূজা কমিটিগুলোকে সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং সেলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপিকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়ন বলেন, ‘শারদীয় দুর্গাপূজা এবার আনন্দমুখর পরিবেশেই উদযাপিত হবে। শান্তিপূর্ণভাবে এবং উৎসবের আনন্দে যাতে ভাটা না পড়ে, সেজন্য আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি। সব পূজামণ্ডপকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পূজামণ্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ও চার্জার লাইট প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।’

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার দাস বলেন, ‘সিলেট জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে পূজা আয়োজনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা, প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, সার্বক্ষণিক জেনারেটর রাখা এবং সরকারি সব নির্দেশনা মেনে চলার জন্য আয়োজকদের অনুরোধ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারও শারদ উৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখরভাবে উদযাপিত হবে বলে আমরা আশা করছি।’

মহালয়া ১০ অক্টোবর

আগামী ১০ অক্টোবর শনিবার মহালয়া অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে সিলেট নগরের মিরাবাজারে শ্রীশ্রী বলরাম জিউর আখড়ায় তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মহালয়া উদযাপন পরিষদ, শ্রীহট্ট। ৮ অক্টোবর থেকে সেখানে মহালয়ার অনুষ্ঠান শুরু হবে।

শারদীয় দুর্গাপূজার মূল পাঁচ দিন হলো মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমী। এ বছর ১৬ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠী, ১৭ অক্টোবর শনিবার মহাসপ্তমী, ১৮ অক্টোবর রোববারও মহাসপ্তমীর তিথি, ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী অনুষ্ঠিত হবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবীপক্ষের সূচনার অমাবস্যা হলো মহালয়া। এদিন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তর্পণের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এবার দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোটকে এবং গমন হবে নৌকায়। দুর্গাপূজার পর আগামী ২৫ অক্টোবর রোববার শ্রীশ্রী কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা এবং ৮ নভেম্বর রোববার শ্রীশ্রী শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

সিলেটকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নগরী হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছরের মতো এবারও দুর্গাপূজার আনন্দে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন। মণ্ডপে মণ্ডপে পূজার আয়োজন ঘিরে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ:

নতুন রূপে আবারও খুলছে জালালাবাদ পার্ক
সিলেট জেলায় ৬৩৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন
সিলামে রাসেল হ/ত্যা: ২২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা
কোম্পানীগঞ্জে ট্রাকভর্তি ভারতীয় ম/দ উদ্ধার, আ/টক ২
সিলেটের ক্রিকেটে পৃষ্ঠপোষকতার স্বীকৃতি, সাহেদ শামসকে সংবর্ধনা
আজমিরীগঞ্জে খানাখন্দে ভরা সড়কে ভো'গান্তিতে যাত্রীরা
সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় গ্রে'প্তার ৪৬ জন, ১৫২টি যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
সিলেট থেকে আরও প্রতিভাবান ক্রিকেটার তুলে আনা হবে -সিসিক প্রশাসক
আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানিকে ঘিরে আদালতে বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের হা/তাহাতি
সিলেটি নারী ও ভাষা নিয়ে শাবি শিক্ষার্থীর মন্তব্য, সমালোচনার ঝড়