ফাইল ছবি
পলিথিন অপচনশীল পদার্থ হওয়ায় দীর্ঘদিন প্রকৃতিতে অবিকৃত অবস্থায় থেকে মাটিতে সূর্যালোক, পানি ও অন্যান্য উপাদান প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে। পচনশীল না হওয়ায় মাটির উর্বরতা শক্তি কমে যায় ও উপকারী ব্যাকটেরিয়া বিস্তারে বাধা তৈরি করে। মাটিকে উত্তপ্ত করা ও গাছের মূল মাটির গভীরে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করে পলিথিন।
গত ১ নভেম্বর সমগ্র বাংলাদেশের কাঁচাবাজারে পলিথিন ও পলিপ্রপিলিনের ব্যাগ নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়। কিন্তু দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে তা কার্যকর হয়নি। উপজেলার বাজারগুলোতে এখনো অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ এ পণ্যটি।
সরেজমিনে আজমিরীগঞ্জ বাজারসহ জলসুখা, শিবপাশা, কাকাইলচেও, বদলপুর ও পাহাড়পুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে অহরহ ব্যবহার হচ্ছে পলিথিনের ব্যাগ। মুদি দোকান, সবজি বিক্রেতা, মাছ-মাংসের বাজার, খাবারের হোটেলসহ সব স্থানেই ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন। বাজারের কোথাও ক্রেতা-বিক্রেতার হাতে দেখা যায়নি বিকল্প পাটের ব্যাগ কিংবা পরিবেশবান্ধব ব্যাগ।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার পলিথিন নিষিদ্ধ করলেও বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলেনি। ফলে নিরুপায় হয়ে আমরা পলিথিন ব্যবহার করছি। পলিথিন ক্ষতিকর হলে এটা নিষিদ্ধ করা হোক। কিন্তু সেটা করতে হবে উৎপাদন পর্যায় থেকে। আগে মানুষ পাটের বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করত। পলিথিন ব্যবহার না হলে আমাদেরও অনেক খরচ বেঁচে যায়।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, পলিথিন ব্যবহার না করার জন্য কোথাও ব্যানার টানানো হয়নি। এমনকি কোনো ম্যাজিস্ট্রেট তদারকি করতে এখনো বাজারে যাননি।
জলসুখা বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, পলিথিন নিষিদ্ধ হলে আমাদের জন্য ভালো হয়। প্রতিদিন অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেঁচে যেত। সরকারের বিকল্প পথ দেখানো উচিত। ছোটবেলায় দেখেছি পাটের ব্যাগ ব্যবহার করতে। পলিথিন ব্যাগ বন্ধের বিষয়ে বলা হলেও মাঠপর্যায়ে তেমন কার্যকরী পদক্ষেপ নেই। প্রতিটি দোকানে এখনো আগের মতোই পলিথিনের ব্যবহার চলছে। বাধ্য হয়ে এগুলোই ব্যবহার করতে হচ্ছে।
সচেতন মহলের লোকজন বলছেন, পলিথিন মানুষের জন্য কতটা ক্ষতিকর, তা না বুঝলে এটা বর্জন করা সম্ভব না। সরকার পলিথিন নিষিদ্ধ করছে এটা ভালো কাজ; কিন্তু পলিথিন উৎপাদনের জন্য আমরা যে কাঁচামাল আমদানি করতাম, সেগুলো বন্ধ হচ্ছে কি না দেখতে হবে। যদি ফ্যাক্টরি বন্ধ না হয়, তাহলে বাজারে শুধু অভিযান চলবে, কয়েকদিন বন্ধ থাকবে, পরে আবার আগের মতো হয়ে যাবে। সোর্স বন্ধ না করতে পারলে আইন দিয়ে কোনো কিছু বন্ধ করা সম্ভব নয়।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




