ছবি: নিজস্ব
হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানা পুলিশের পৃথক দু'টি অভিযানে নাইন মার্ডার মামলার এজাহার নামীয় দুই আসামীকে করেছেন বানিয়াচং থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানাযায়,গতকাল ২১ ডিসেম্বর শনিবার(ওসি) তদন্ত আব্দুর রহিম এর নির্দেশে মামলার আইও এসআই জাহাঙ্গীর আলম সঙ্গীয় অফিসার এসআই রিয়াজ,এএসআই ফুলচান,এএসআই শফিকুল ইসলামসহ একদল পুলিশ নিয়ে বিকাল সাড়ে ৫টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বানিয়াচং উপজেলার ৫নং দৌলতপুর ইউনিয়নের মার্কুলী বাজারে অভিযান চালিয়ে নাইন মার্ডার মামলার এজাহার নামীয় আসামী হিলাল নগর গ্রামের গৌর সুন্দর দাস এর পুত্র আওয়ামীলীগ নেতা ও ব্যাবসায়ী গনেশ দাস(৪৫)কে গ্রেফতার করেন।
অন্যদিকে ২১ডিসেম্বর শনিবার দিবাগত রাত পেরিয়ে ২২ ডিসেম্বর রবিবার রাত ১টার দিকে মামলার আইও এসআই জাহাঙ্গীর আলম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা সদরের ৩নং দক্ষিণ পূর্ব ইউনিয়নের ত্রিকর মহল্লায় অভিযান চালিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা ও ব্যাবসায়ী ৯ মার্ডার মামলার এজাহার নামীয় পলাতক আসামী শাহজাহান মিয়াকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেন।
এই গ্রেফতারের বিষয়টি রাত ২টার দিকে মামলার আইও এসআই জাহাঙ্গীর আলম নিশ্চিত করে বলেন,আজ রবিবার তাদেরকে হবিগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হবে।এছাড়াও তাদেরকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ৯ মার্ডার মামলায় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী এই পর্যন্ত এজাহার নামীয় ১০জন আসামীকে ও অন্যান্য মামলার ৬জন আসামীকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং তারা সবাই জেল হাজতে রয়েছেন।
এব্যাপারে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)কবির হুসেন এর সাথে যোগাযোগ করে গ্রেফতার ও মামলার ফাইনাল চার্জশীট সম্পর্কে জানতে চাইলে,তিনি গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,ফাইনাল চার্জশীট হতে আরও সময় লাগবে এখন শিওর করে বলা যাবেনা তবে এবিষয়ে ফাইনালী সিদ্ধান্ত হলে জানানো হবে।
উল্লেখ্য,গত ৫ আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী এক দফা ছাত্র আন্দোলনকারী ও থানা পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের হাতে সাংবাদিক,পুলিশসহ ১০জনের প্রানহানীর ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনার ১৬দিন পর নিহত এক শিশুর পিতা ৯জন হত্যার ঘটনার আওয়ামীলীগের সাবেক দুই এমপিকে হুকুমদায়ী আসামী করে ১৬০জনকে নামীয় ও অজ্ঞাত ৩০০জনকে আসামী দেখিয়ে একটি মামলা করেন।মামলাটির তদন্তভার এর দায়িত্ব দেওয়া হয় বানিয়াচং থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জাহাঙ্গীর আলমকে।
তিনি এই পর্যন্ত এজাহার নামীয় ১০ জন ও অন্যান্য মামলার ৬জনকে এই মামলার আসামী অন্তর্ভুক্ত দেখিয়ে মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার দিয়েছেন।অন্যদিকে এই মামলার আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান মিয়াকে গ্রেফতারের পর বিষয়টি সাধারণ জনগন থেকে শুরু করে আপামর জনতার মধ্যে এক সমালোচনার জন্ম দেয়।
অনেকেই বানিয়াচংয়ের ইতিহাসে এমন ঘটনা আর ঘটেনি বলেও উল্লেখ করে বলেন,এমন চরম একটি সত্য ঘটনায় এতজন লোকের প্রানহানীর ঘটনা ঘটলো।অথচ রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এক নিহত শিশুর পিতাকে বাদী করে মিথ্যা মামলা দিয়ে অযথা ওদেরকে গ্রেফতার করে হয়রানি করে মূল হত্যাকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
আবার অনেকেই এসব হত্যার সুষ্ঠ তদন্ত করে মূল হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি জানান সরকারের নিকট।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




