ছবি: নিজস্ব
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার করাঙ্গী নদী দূষণমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাহুবল উপজেলার সচেতন নাগরিত সমাজ। এ ছাড়া করাঙ্গী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, নদীর অপরিকল্পিত ব্যবহার, শিল্প-কলকারখানার অপরিশোধিত রাসায়নিক ও ডায়িংয়ের বিষাক্ত বর্জ্য থেকে করাঙ্গী নদীকে বাঁচাতে ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের বড়গাঁও ভারট্রেক্স পেপার মিলস এর সামনে মানববন্ধন করা হয়।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সকালে করাঙ্গী নদীর পানি দূষিত হচ্ছে এই দূষনের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা উপজেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন রাখেন, গত ১৭ মার্চ ২০২৫ খ্রি. তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাহুবল বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। কিন্তু প্রশাসন কৃর্তক কোন পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। বক্তারা আরো বলেন, করাঙ্গী নদী বাঁচাতে আমাদের সকলের ঐক্য দরকার। বাহুবল উপজেলার করাঙ্গী নদী আমাদের কৃষিকাজ, পানিসেচ ও জীবিকা নির্বাহের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ভার্টেক্স পেপার এন্ড বোর্ড মিলস তাদের বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলে নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, পানিবাহিত রোগ ছড়াচ্ছে, এবং নদীর জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পথে। তারা অভিযোগ করেন, Vertex Paper Board & Mills কর্তৃক করাঙ্গী নদীতে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলায় করাঙ্গী নদীর পানি কালো ও দূর্গন্ধ হয়ে দিনদিন ধূষিত হচ্ছে। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে।
বক্তাদের ১ দফা ১ দাবি, ভার্টেক্স পেপার এন্ড বোর্ড মিলস এর কোন বর্জ্য করাঙ্গী নদীতে ফেলতে পারবে না। অন্যথায় হুশিয়ারি দেওয়া হয় যে, আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই সমস্যা সমাধান না করিলে কঠোর কর্মসূচী ও কোম্পানীতে তালা দেওয়া হবে।
এক পর্যায়ে ভার্টেক্স পেপার এন্ড বোর্ড মিলস এর নির্বাহী পরিচালক জসীম চৌধুরী মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্য বলেন, আমাকে ৭ দিন সময় দেন আমি সকল সমস্যা সমাধান করে দিব। আমরা কোম্পানী কর্তৃপক্ষ সমাধান না করিলে আমি নিজে এখান থেকে ইস্তফা দিয়ে চলে যাব।
বাহুবল উপজেলার সচেতন নাগরিত সমাজ এর নেতৃবৃন্দরা বলেন আমরা সকল সচেতন নাগরিকদের অনুরোধ জানাই, যেখানে অন্যায় সেখানেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, প্রশাসনের কাছে আরও জোরালো পদক্ষেপ দাবি করেন আসাদ চৌধুরী, মো: সোহান মিয়া, শাহ সুজন, রিয়াজ আহমেদ, আব্দুল আজিজ, আসিফ আহমেদ, আরাফাত ইয়াসিন, ফাহিম রহমান, ইফতেকার আহমেদ রাহিম, মোহাম্মদ বিন আকবর, অলি মিয়া খালেক আহমেদ প্রমুখ।এবিষয়ে জানতে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ গিয়াস উদ্দীনকে কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




